বাংলাদেশ সরকার রোজা মাসে গৃহস্থালির খাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪ কোটি ৭৫ লাখ লিটার ভোজ্যতেল এবং ১০,০০০ টন ডাল সংগ্রহের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি রোজা-উপবাসের সময়ে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি রোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ক্রয় কাজটি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত করা হয়েছে।
প্রকৃত ক্রয়টি সরাসরি সরকারি সংস্থা ও অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ভোজ্যতেল ও ডাল উভয়ই দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি উভয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে, যাতে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো বাধা না আসে। সরকারী তহবিলের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো রোজা-উপবাসের সময়ে দরকারি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকারি বাজেটের এই অংশের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়। তহবিলের মূল উৎস হল জাতীয় বাজেটের বিশেষ খাদ্য নিরাপত্তা তহবিল, যা পূর্বে দুর্যোগ ও মৌসুমী চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যয় পরিকল্পনা সরকারকে বাজারে অস্থিরতা কমাতে এবং দরিদ্র পরিবারের খাবার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে, দেশীয় উৎপাদন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থিতিশীল থাকলেও আন্তর্জাতিক তেল মূল্যের ওঠানামা স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারী বড় পরিমাণের ক্রয় স্থানীয় তেল উৎপাদনকারীদের জন্য চাহিদা বাড়াবে এবং উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ দেবে। একই সঙ্গে, আমদানি করা তেল থেকে প্রতিযোগিতা কমে স্থানীয় উৎপাদকদের লাভের মার্জিন উন্নত হতে পারে।
ডালের ক্ষেত্রে, দেশীয় উৎপাদন মৌসুমীভাবে পরিবর্তনশীল, ফলে রপ্তানি ও আমদানি উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১০,০০০ টন ডাল ক্রয় করে সরকার বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করবে এবং দামের অস্থিরতা কমাবে। এই পদক্ষেপটি বিশেষ করে গরু, মুরগি ও মাছের সাথে ডাল খাওয়ানো গৃহস্থালির জন্য উপকারী হবে।
বৃহত্তর পরিসরে দেখা গেলে, এই ধরনের সরকারি ক্রয় স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদনকারীদের জন্য একটি স্থিতিশীল চাহিদা সৃষ্টির সুযোগ দেয়। বড় পরিমাণের অর্ডার নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে এবং গুণগত মান উন্নত করতে বিনিয়োগ করতে পারে। ফলে কৃষি সেক্টরের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডালের দামের ওঠানামা সরকারী ক্রয়ের খরচকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি বৈশ্বিক তেল মূল্য দ্রুত বাড়ে, তবে সরকারকে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ করতে হতে পারে অথবা ক্রয় মূল্য পুনর্নির্ধারণ করতে হতে পারে। ডালের ক্ষেত্রে, আমদানি শুল্ক ও পরিবহন খরচের পরিবর্তনও মোট ব্যয়কে প্রভাবিত করবে।
লজিস্টিক্স দিক থেকে, বড় পরিমাণের পণ্য সরবরাহের জন্য সঠিক সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকারী সংস্থা গুদাম ও ট্রাকিং সেবা সমন্বয় করে সময়মতো পণ্যগুলো রোজা-উপবাসের সময়ে বাজারে পৌঁছে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো দেরি হলে সরবরাহের ঘাটতি এবং দামের অস্থিরতা পুনরায় দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে, রোজা মাসে এই ধরনের পরিকল্পিত ক্রয় বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ভোক্তাদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। সরকার যদি নিয়মিতভাবে এই ধরণের ক্রয় চালিয়ে যায়, তবে তেল ও ডালের চাহিদা-সরবরাহ সমতা বজায় থাকবে এবং দুর্যোগ বা চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমে যাবে।
সারসংক্ষেপে, রোজা-উপবাসের সময়ে ভোজ্যতেল ও ডালের বড় পরিমাণের সরকারি ক্রয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে যথাযথ তহবিল বরাদ্দ, সরবরাহ শৃঙ্খলের দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মূল্য প্রবণতার উপর।



