পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের আদালতে ৩৯ বছর বয়সী মার্টিন গ্লিনকে রেসিয়াল হ্যারাসমেন্ট, নিষিদ্ধ অস্ত্রের মালিকানা এবং অগ্নি অস্ত্রের অনুপযুক্ত সংরক্ষণে অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্লিনের বাড়ি থেকে পুলিশ কয়েকটি রাইফেল, প্রায় ৪০০ গোলাবারুদের বাক্স এবং বোমা তৈরির সামগ্রীর তালিকা সহ হামাস ও হিজবুল্লাহর পতাকা উদ্ধার করেছে। এই পদক্ষেপটি একটি নাগরিকের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছিল, যিনি গ্লিনের ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত করে পুলিশকে জানিয়েছিলেন।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি ১৪ ডিসেম্বর বন্ডি বিচের হানুকা ইভেন্টে দুই গুলিবিদ্ধের পরে প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৫ জন নিহত হয়। গ্লিন পোস্টে আক্রমণকারীদের কাজকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পোস্টটি লক্ষ্য করা এক বাসিন্দা তা অবিলম্বে পুলিশে জানিয়ে দেন, ফলে গ্লিনের বাড়িতে অনুসন্ধান চালু হয়।
অনুসন্ধানের সময় গ্লিনের ঘরে একটি নোটবুক পাওয়া যায়, যেখানে অ্যান্টি-সেমিটিক মন্তব্য এবং নাৎসি মতাদর্শের উল্লেখ রয়েছে। তদুপরি, তিনটি ত্রিপক্ষীয় পতাকা, ছয়টি রাইফেল এবং প্রায় চারশো রাউন্ড গোলাবারুদের পাশাপাশি বোমা তৈরির সামগ্রীর তালিকাও উদ্ধার করা হয়। গ্লিনের স্ব-প্রতিনিধিত্বে আদালতে তিনি গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশের জন্য পোস্টটি তৈরি করেছেন বলে ব্যাখ্যা করেন, এবং তা কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নয় বলে দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অ্যান্থনি আলবেনিজের মতে, অস্ট্রেলিয়ায় ঘৃণা, অ্যান্টি-সেমিটিজম এবং সহিংস মতাদর্শের কোনো স্থান নেই। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কার্যনির্বাহী প্রধান রিটা সাফফিওটি ক্রিসমাস ইভে মিডিয়াকে জানিয়ে বলেন, গ্লিনের পোস্টটি একটি কমিউনিটি সদস্যের সতর্কতার ফলে প্রকাশ পেয়েছে এবং তা দ্রুত তদন্তের সূচনা করে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ কমিশনার কল ব্ল্যাঞ্চও উল্লেখ করেন, গ্লিনের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তার পূর্বে কোনো সন্দেহজনক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। গ্লিনের বোনাস হিসেবে তিনি নিজেকে ‘ডুমসডে প্রিপার’ বলে পরিচয় দিয়েছেন, এবং বোমা তৈরির সামগ্রীকে তিনি আগুন জ্বালানোর উপকরণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
আদালতে গ্লিনের জামিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তাকে পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত করা হয়। গ্লিনের পূর্বের কাজকর্মের কোনো রেকর্ড না থাকলেও, তার বাড়িতে পাওয়া অস্ত্র ও সামগ্রীগুলো আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলায় রেসিয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগের পাশাপাশি নিষিদ্ধ অস্ত্রের মালিকানা এবং সঠিকভাবে অস্ত্র সংরক্ষণ না করার অভিযোগও রয়েছে। গ্লিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন এবং হেট ক্রাইম বিরোধী বিধানকে লঙ্ঘন করে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ধরনের হিংসাত্মক এবং ঘৃণামূলক প্রকাশনা সমাজের নিরাপত্তা ও ঐক্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মার্টিন গ্লিনের মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত তার অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেবে, যা অস্ট্রেলিয়ার হেট ক্রাইম ও অস্ত্র অপরাধের মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



