22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের বিশদ

২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের বিশদ

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা সুপ্রিম কোর্টে ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণ করে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার সংস্থার নেতৃত্বে পদার্পণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, বিচারিক মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ বিচারকগণ উপস্থিত ছিলেন, যা দেশের আইন শাসনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।

চৌধুরী বিচারপতি হিসেবে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন; তিনি পূর্বে ঢাকা উচ্চ আদালতে এবং বিভিন্ন বিশেষ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি মানবাধিকার, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন, যা তাকে বিচারিক শৃঙ্খলার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত করেছে।

শপথের আগে তিনি কিছু সময় বিদেশে কাটিয়েছিলেন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইনি সেমিনারে অংশগ্রহণ ও গবেষণা করছিলেন। দেশে ফিরে তিনি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসার সংকল্প প্রকাশ করেন। তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের আইনি সম্প্রদায়ে ইতিবাচক সাড়া জাগিয়ে তুলেছে।

শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি সরকারী সংস্থা থেকে একটি সভার জন্য ডাকা হন, যেখানে বর্তমান বিচারিক সংস্কার, কেস ব্যাকলগ হ্রাস এবং আদালতের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। এই সভায় তিনি বিচারিক স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত কার্যকরী পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

চৌধুরী একই সময়ে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যকলাপের প্রতি কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমন করা অপরিহার্য।

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুততা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আদালতের কাঠামো ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী কেস ব্যাকলগ কমাতে ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানো এবং বিচারিক প্রশিক্ষণকে আধুনিকায়ন করা জরুরি।

এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে; বিরোধী দলগুলো নতুন প্রধান বিচারপতির স্বতন্ত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যদিও সরকার তার অভিজ্ঞতা ও ন্যায়বিচারিক নীতির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। বিরোধী দলের কিছু নেতা বিচারিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তবে অধিকাংশ বিশ্লেষক চৌধুরীর পেশাদারিত্বকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন।

সরকারি পক্ষ থেকে চৌধুরীর শপথকে একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা গঠনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিচারিক মন্ত্রী তার দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার দ্রুত ও ন্যায্যভাবে প্রদান করার জন্য সমর্থন প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, আইনি সংস্থাগুলোও তার নেতৃত্বে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় নতুন উদ্যোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।

চৌধুরীর শপথের পরপরই তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী কেসের দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের সম্পূর্ণ রূপায়ন। তিনি ভবিষ্যতে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে দেশের আইনি কাঠামোকে আধুনিকায়নের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবেন। তার এই পরিকল্পনা দেশের আইন শাসনের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments