২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার, মির্জা ফখরুল সরকারী নীতি সমর্থক এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে লন্ডনের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “বিদ্রোহীদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে” এবং তৎক্ষণাৎ আইনগত ও সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য দেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণ বাড়ার ফলে সশস্ত্র সংঘর্ষ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং নাগরিক ক্ষতি ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীগুলি মূলত সশস্ত্র হিংসা ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপকে বাধা দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুলের পোস্টে উল্লেখিত কঠোর ব্যবস্থা বলতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্রতা বৃদ্ধি, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতাদের গ্রেফতার এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের দ্রুততা বোঝান। তিনি আরও বলেন, “যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে”। এই আহ্বানটি দেশের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী বিবৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি অপারেশন চালু করেছে এবং গৃহীত আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে গোষ্ঠীর কাঠামো ভেঙে ফেলতে চায়।
মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের পর নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান অপারেশনগুলোকে ত্বরান্বিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, “গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে”।
এই সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুলের কঠোর আহ্বান দেশের নিরাপত্তা নীতি গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে, বিশেষ করে যখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থন একসাথে কাজ করলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করা সম্ভব হবে”।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও মির্জা ফখরুলের পোস্টে সরাসরি কোনো বিরোধী দলের মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত নেই, তবে পূর্বে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় যে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সংলাপের পক্ষে ছিলেন।
মির্জা ফখরুলের এই প্রকাশনা দেশের নিরাপত্তা নীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে” এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘোষণার ভিত্তিতে সরকার কী ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নেবে তা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
মির্জা ফখরুলের এই আহ্বান এবং সরকারী প্রতিক্রিয়া একসাথে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



