লিবেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আল‑হাদ্দাদ এবং তার সঙ্গে চারজন সহযাত্রী ও তিনজন ক্রু সদস্যকে বহনকারী একটি ব্যক্তিগত জেট, তুরস্কের আকাশে বৈদ্যুতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে জরুরি অবতরণ চাওয়ার পরই ধসে পড়ে। ঘটনাটি তুর্কি কর্তৃপক্ষের নজরে এসে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
বিমানটি তুর্কি প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধানের মাধ্যমে সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আকাশে থাকা অবস্থায় ইলেকট্রিক্যাল ত্রুটির কারণে পাইলট জরুরি অবতরণ অনুমতি চেয়েছিলেন। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারকে অবিলম্বে জানিয়ে অবতরণের অনুরোধ করা হয়, তবে তা পূরণ হওয়ার আগে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধসে পড়ে।
বিমানটিতে লিবেরিয়ার চিফ অব জেনারেল স্টাফ মোহাম্মদ আল‑হাদ্দাদ, তার চারজন সফরসঙ্গী এবং তিনজন ক্রু সদস্য ছিলেন। জরুরি অবতরণ চাওয়ার পরেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি মাটিতে ধসে যায়, ফলে সকল যাত্রী প্রাণ হারায়।
তুর্কি কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালু করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও রেকর্ড পরীক্ষা করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ত্রুটি প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে শেষ পর্যন্ত তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
লিবেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা সামাজিক মিডিয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে আল‑হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ঘটনাটিকে “মর্মান্তিক দুর্ঘটনা” বলে উল্লেখ করে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
আল‑হাদ্দাদ লিবেরিয়ার পশ্চিম অংশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ছিলেন এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দেশের বিভক্ত সেনাবাহিনীকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তার নেতৃত্বে বহু নিরাপত্তা চুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক ছিল।
বিমান দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন স্থলবাহিনীর প্রধান জেনারেল আল‑ফিতৌরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল‑কাতাওয়ি, সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল‑আসাওয়ি দিয়াব এবং সামরিক আলোকচিত্রী মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব। এ সকল ব্যক্তিরা লিবেরিয়ার নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
দলটি আঙ্কারায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা আলোচনার জন্য গিয়েছিল, যেখানে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম ভাগাভাগি করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যৌথ কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। এই সফরটি লিবেরিয়া-তুর্কি কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
দুর্ঘটনা ঘটার পর উভয় দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, লিবেরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এই হঠাৎ শূন্যতা সাময়িকভাবে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা প্রোগ্রামকে বিলম্বিত করতে পারে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে চলমান প্রশিক্ষণ মিশন ও সরঞ্জাম সরবরাহের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, আল‑হাদ্দাদের মৃত্যুর ফলে লিবেরিয়ার অভ্যন্তরীণ সামরিক ঐক্য প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি আসতে পারে, বিশেষ করে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে চলমান একীকরণ মিশন। তবে তারা আশাবাদী যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও তুর্কি সরকারের সহায়তা এই ফাঁক পূরণে সহায়তা করবে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে তুর্কি বিমান সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে দুর্ঘটনার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ হবে। লিবেরিয়ার সরকারও শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করে নতুন নেতৃত্ব গঠনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আঙ্কারায় নির্ধারিত সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ পুনরায় নির্ধারণ করা হবে, যাতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে ধসে পড়া বিমানটি লিবেরিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে এই শোকজনক ঘটনার পর লিবেরিয়া-তুর্কি সহযোগিতা কতটা দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে।



