দৌলতদিয়া‑পাটুরিয়া নৌরুটে ঘনকুয়াশার কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকা ফেরি সেবা বুধবার সকাল ১০:৪০ টায় স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। এই রুটে স্থানীয় যাত্রী ও পণ্যবাহকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, তাই পরিষেবার পুনরায় শুরু স্থানীয় জনগণের জন্য স্বস্তির বিষয়।
বিকেল পর্যন্ত কুয়াশা ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যাওয়ায় নৌকা চলাচলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়। ঘাট কর্তৃপক্ষ কুয়াশা কমে যাওয়া সনাক্ত করে দ্রুত ফেরি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক নুর আহমেদ মিয়া জানান, কুয়াশা পরিষ্কার হওয়ার পর সকাল ১০:৪০ টায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং বর্তমানে রুটে দশটি ফেরি নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নদীর অববাহিকায় কুয়াশা কমে যাওয়ায় নৌপথের দৃশ্যমানতা পুনরুদ্ধার হয়েছে।
সেই দিন সকালে কুয়াশার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌপথের চ্যানেল মার্কিং পয়েন্টগুলো অস্বচ্ছ হয়ে যায়। চিহ্নগুলো স্পষ্ট না থাকায় নৌকা চালকদের জন্য পথ নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধে ঘাট কর্তৃপক্ষ সকাল ৫:৫০ টা থেকে দৌলতদিয়া‑পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখে। এই সময়ে নৌকা চালক ও যাত্রীদের নিরাপদে অপেক্ষা করতে হয়।
কুয়াশা ঘন হওয়ার সময়ে নৌপথের দৃশ্যমানতা হ্রাস পায়, ফলে চ্যানেল মার্কিং পয়েন্টের স্পষ্টতা হারায়। এই পরিস্থিতি নৌকা চালকদের জন্য দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরে।
ঘাট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে সকাল ৫:৫০ টায় সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সময়ে নৌকাগুলো নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে থামিয়ে রাখা হয় এবং যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়ে দেন, ফেরি সেবা বন্ধ থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহে দেরি হয় এবং কর্মচারীরা সময়মতো কাজের স্থানে পৌঁছাতে সমস্যার সম্মুখীন হন। রুটের পুনরায় খোলার ফলে এই বাধা দূর হবে বলে আশা করা যায়।
দৌলতদিয়া‑পাটুরিয়া রুটের দৈনিক গড়ে প্রায় দশটি ফেরি চলাচল করে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য রক্তনালীর মতো কাজ করে। রুটের বন্ধ থাকা সময়ে অনেক গৃহস্থালী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়, যা অতিরিক্ত ব্যয় ও সময়ের ক্ষতি করে।
অবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজকের পরে কুয়াশা হ্রাস পাবে এবং নৌপথে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ যেকোনো পুনরায় কুয়াশা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবে।
যাত্রীদের জন্য এখন নিরাপদে নৌকা চড়া সম্ভব, তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রতি লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘাটের কর্মীরা রুটের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
সারসংক্ষেপে, ঘনকুয়াশা কাটার পর দৌলতদিয়া‑পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সেবা পুনরায় চালু হয়েছে, দশটি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে এবং স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসা এখন স্বাভাবিক রুটে ফিরে এসেছে।



