বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম ম্যাচে ১৪ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী আরুণাচল প্রদেশের হয়ে বিহারের বিপক্ষে ৩৬ রান দিয়ে শুরুর পর সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন। তার এই পারফরম্যান্স পুরো দিনের আলোকে বদলে দেয়, যখন ভিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা গরম ছিল।
কোহলি ১৬ বছর পর এবং শর্মার ৭ বছর পর দেশের ৫০‑ওভার টুর্নামেন্টে ফিরে এসেছেন, তবে প্রথম দিনই সূর্যবংশীর আক্রমণাত্মক খেলা দর্শকদের মন জয় করে। তিনি ১৪ বছর ২৭২ দিনে সেঞ্চুরি করে লিস্ট‑এ সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে তোলেন, যা ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের জহুর এলাহি ১৫ বছর ২০৯ দিনে গড়ে তোলা রেকর্ডকে ভেঙে দেয়।
এটি তার সপ্তম ওয়ানডে ম্যাচ এবং টি‑টোয়েন্টির বাইরে তার প্রথম সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরি লিস্ট‑এ চতুর্থ দ্রুততম, এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি হিসেবে রেকর্ড হয়। গত বছর আনমোলপ্রীত সিং ৩৫ বলের সেঞ্চুরি করে প্রথম স্থান দখল করলেও, সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড এখনও অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক ফ্রেজার‑ম্যাগার্কের ২০২৩ সালের মার্শ কাপের ২৯ বলের সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পাশাপাশি সূর্যবংশী ১.৫ শ রানের ইনিংসের দ্রুততম রেকর্ডও স্থাপন করেন। তিনি মাত্র ৫৯ বলেই ১৫০ রান সম্পন্ন করেন, যা ২০১৫ সালে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৬৪ বলের রেকর্ডকে অতিক্রম করে। এরপর তিনি ৮৪ বলেই ১৯০ রান করেন, যার মধ্যে ১৬টি চতুর্থি এবং ১৫টি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত।
ইনিংসের শেষ পর্যায়ে তিনি আরুণাচল দলের স্পিনার তেচি নেরির বোলিংয়ে আউট হন। তার বিচ্ছেদে বিহারের ব্যাটিং ইনিংস এখনও চলমান, এবং প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তারা ২৬ ওভারে ২ উইকেটের সঙ্গে ২৬১ রান সংগ্রহ করেছে।
বৈভবের এই পারফরম্যান্স লিস্ট‑এ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করে। তার বয়স ও স্কোরের সমন্বয় তাকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আরুণাচল প্রদেশের এই জয় তার তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈভবের সেঞ্চুরি এবং দ্রুত ১৫০‑রান ইনিংসের সঙ্গে সঙ্গে তার শটের বৈচিত্র্য ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি যে রকম শটের মাধ্যমে রানের গতি বাড়িয়ে তুলেছেন, তা ভবিষ্যতে উচ্চতর স্তরে তার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বিজয় হাজারে ট্রফির এই প্রথম দিনে তরুণ প্রতিভার উত্থান দেখিয়ে দিল যে, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ শুধু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নয়, নবীনদের মধ্যেও সমৃদ্ধ। সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স এই দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, যা দেশের ক্রীড়া জগতে নতুন আলো জ্বালাবে।



