ভারতীয় ক্রিকেটের টি‑টোয়েন্টি দল থেকে শুবমান গিলকে বাদ দেওয়া এবং বিশ্বকাপের তালিকা থেকে তার নাম না রাখা নিয়ে সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ কাইফের তীব্র সমালোচনা শোনা গেল। গিলকে সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ এশিয়া কাপের আগে টি‑টোয়েন্টি দলে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা প্রায় এক বছর পরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিরোধপূর্ণভাবে শেষ হয়। কাইফের মতে, এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচকদের পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি প্রকাশ করে।
গিলের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি ১৩ মাসের বিরতির পর ঘটেছিল, যখন তিনি টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটে দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতি পেরিয়ে ফিরে আসেন। তবে এশিয়া কাপ, অস্ট্রেলিয়া সফর এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। পুনরায় ফিরে আসার পর গিল ১৫টি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে কোনো পঞ্চাশের স্কোর করতে পারেননি, যা তার পূর্বের ফর্মের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য সৃষ্টি করে।
গিলের এই দুর্বলতা দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করতে হয়েছে, এবং দলে জায়গা নড়বড়ে হয়ে শেষ পর্যন্ত স্যামসনকেও বাদ দিতে হয়। গিলের প্রত্যাবর্তনের সময় স্যামসনের ভূমিকা পুনর্বিন্যাস করা হয়, যা দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে জটিল করে তুলেছিল।
অন্যদিকে, আগ্রাসী শৈলীর ব্যাটসম্যান ইয়াসাসভি জয়সওয়ালও ধারাবাহিক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও দলে সুযোগ পায়নি। জয়সওয়ালের মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সত্ত্বেও গিলের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এবং পরে তার বাদ দেওয়া দলীয় নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গত বছর গিল পাঁচটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে তিনটি শতক অর্জন করে শীর্ষ ফর্মে ছিলেন, যা তাকে সেই সময়ের অন্যতম কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে তুলেছিল। তবে তার এই সাফল্য সত্ত্বেও, নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে গিলের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এবং পরে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া সমালোচনার মুখে পড়ে। কাইফের মতে, গিলকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার পর শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হলেও সময়সীমা খুব দেরিতে ছিল।
কাইফ ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, “গিলকে আবার দলতে নিয়ে আসা হয় এবং শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটি সঠিক, তবে পরিকল্পনা ছিল না। পরিকল্পনা ছাড়া সময় নষ্ট হয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখানে কোনো স্পষ্ট কৌশল ছিল না, ফলে সময়ের অপচয় হয়েছে এবং অপ্রস্তুত খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “১৭‑১৮ ইনিংসের (১৫ ইনিংসের) পর গিলের রান না পাওয়ার ফলে আর কোনো বিকল্প না থাকায় তাকে বাদ দিতে হয়। চাপ বাড়ছিল, আর সুযোগের সংখ্যা কমে যাচ্ছিল।” কাইফের মতে, গিলের ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের জন্য বড় ক্ষতি স্বরূপ, এবং এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত যদি সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
কাইফের শেষ মন্তব্যে তিনি বলেন, “দলে গিলের চেয়ে ভালো ব্যাটার আছে, টি‑টোয়েন্টিতে গিলের তুলনায় আরও দক্ষ খেলোয়াড় রয়েছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা হতো, তবে গিলের বদলে অন্যদের সুযোগ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করা যেত।”
এই বিতর্কের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী টি‑টোয়েন্টি সিরিজ এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কীভাবে এগোবে, তা এখন নজরে। নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের প্রভাব দলীয় গঠন ও কৌশলে কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা আগামী ম্যাচগুলোতে স্পষ্ট হবে।



