আজ ওসমানী স্মৃতি হলের অডিটোরিয়ামে জাতীয় পুরস্কার একুশে পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস পুরস্কার হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলকে, যার মধ্যে ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন ও তার সহকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। এই স্বীকৃতি তাদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি এবং দেশের গর্বের প্রতীক।
একুশে পদক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, যা প্রতি বছর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও দলকে প্রদান করা হয়। আজকের অনুষ্ঠানে মোট তেরজন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে নারী ফুটবল দলকে সম্মানিত করা হয়েছে। পুরস্কার বিতরণে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার উচ্চপদস্থ সদস্য।
নারী জাতীয় দল ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়া ফুটবল ফেডারেশন (SAFF) নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে ইতিহাস রচনা করে। দুই বছর পর ২০২৪ সালে তারা আবার শিরোপা রক্ষা করে, যা দেশের ফুটবলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। এই ধারাবাহিক সাফল্যই একুশে পদকের পেছনে প্রধান কারণ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
দলটি মোট চারজন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত, যাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে। তাদের কৌশলগত খেলা, দৃঢ় রক্ষণ এবং দ্রুত আক্রমণ শৈলীকে প্রশংসা করা হয়েছে। দলটি দেশের জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, যা তাদের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা দলের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “আপনারা দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে মাইলফলক তৈরি করেছেন, তা জাতির গর্বের বিষয়। আপনারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উঁচুতে তুলে ধরেছেন, যা জাতিসংঘের সমাবেশে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।” এই মন্তব্য দলকে আরও উচ্চতর লক্ষ্য অর্জনের প্রেরণা জোগায় এবং দেশের ক্রীড়া নীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা দলের সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া নীতি ও যুব উন্নয়নের মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, নারী ক্রীড়া ক্ষেত্রে সমতা ও সমর্থন বাড়াতে এই ধরনের স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিডিয়া এই মুহূর্তকে ব্যাপকভাবে কভার করেছে, এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যা তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর দলটি সংক্ষিপ্তভাবে তাদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেয়ার করে। তারা উল্লেখ করে, আগামী বছরগুলোতে এশিয়া গেমস ও বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে অংশগ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া তারা যুবকোচিং প্রোগ্রাম চালু করে নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে অভিজ্ঞ কোচ ও বিশ্লেষকরা সরাসরি কাজ করবেন।
পুরস্কার বিতরণে উপস্থিত ১৩জন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও সমাজসেবার প্রতিনিধিও ছিলেন। তাদের মধ্যে কিছু নাম উল্লেখযোগ্য, তবে এখানে তালিকা না দিলেও স্পষ্ট যে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মেধাবী ব্যক্তিরা একত্রে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। এই সমন্বয় সমাজের সমগ্র উন্নয়নে সহায়ক এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পুরস্কার অনুষ্ঠানের পর দলটি ওসমানী স্মৃতি হলের সামনে একটি ছোট ফটো সেশন করে। ফটোগ্রাফিতে দলটি গর্বিতভাবে একুশে পদকের ট্রফি ধরে আছে, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে এবং জনগণের মধ্যে উল্লাসের স্রোত তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, এই স্বীকৃতি নারী ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন প্রেরণা জোগাবে। তারা উল্লেখ করেন, পুরস্কার পাওয়া দলটি এখনো তরুণ এবং তাদের ক্যারিয়ার দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক টুর



