ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইলেকট্রনিক সঙ্গীতকে জাতীয় অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপটি দেশের শিল্পগত পরিচয় গঠনে এই ধারার অবদানকে স্বীকৃতি দেয় এবং ভবিষ্যতে এর সংরক্ষণে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
মন্ত্রণালয়ের recent ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ক্লাবকে “শিল্পী প্রকাশ ও উদযাপনের স্থান” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে তুলে ধরে। এই স্বীকৃতি ক্লাবগুলোকে ঐতিহ্যবাহী শিল্পের অংশ হিসেবে গণ্য করার ভিত্তি স্থাপন করে।
এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার, ক্যাসিয়াস, ড্যাফট পাঙ্ক, জাস্টিস এবং জঁ-মিকেল জারে-কে ফরাসি সংস্কৃতির মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই শিল্পীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফরাসি ইলেকট্রনিক সাউন্ডের পরিচয় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী রাচিদা দাতি উল্লেখ করেন, ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের ফরাসি অমূর্ত ঐতিহ্যের মধ্যে স্বাভাবিক স্থান রয়েছে এবং এই স্বীকৃতি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশে সহায়ক হবে। তিনি ক্লাবগুলোকে সৃজনশীল প্রকাশের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বারোপ করেন।
জঁ-মিকেল জারের অবদান বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। তার ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত “অক্সিজেন” অ্যালবামটি প্রাথমিক সিন্থেসাইজার ব্যবহার করে তৈরি হয় এবং এতে কোনো গায়কী অংশ নেই, যা ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
“অক্সিজেন”ের পরবর্তী “ইকুইনক্স” এবং “জুলুক” অ্যালবামগুলো ফরাসি টাচের ভিত্তি স্থাপন করে, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়। এই রেকর্ডগুলো ফরাসি ইলেকট্রনিক সাউন্ডের স্বতন্ত্র রঙ ও গঠনকে নির্ধারণ করে।
১৯৯৩ সাল থেকে জঁ-মিকেল জারে ইউনেস্কো অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন এবং অমূর্ত সংস্কৃতির প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা ইলেকট্রনিক সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করেছে।
২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন জারের অবদানের স্বীকৃতিতে তাকে ফরাসি লেজিয়ন দে হনারের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেন, যেখানে তিনি কমান্ডার পদে নিযুক্ত হন। এই সম্মান তার সঙ্গীত জীবনের শীর্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
জারে নিজে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের এই স্বীকৃতি তার বহু দশকের প্রচেষ্টার ফলাফল এবং এটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে সমন্বয় ঘটানোর একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি এই অর্জনকে ফরাসি সঙ্গীতের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ক্যারিয়ার জুড়ে জারে ইউনেস্কো ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইটে পারফরম্যান্স দিয়েছেন, যার মধ্যে গিজার পিরামিড, ফোরবিডেন সিটি, আইফেল টাওয়ার, ভার্সাই, মাসাদা এবং পোম্পেই অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষে তিনি কোনো ঐতিহাসিক স্থানে ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের সুর বাজিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ ইলেকট্রনিক সঙ্গীতকে কেবল একটি আধুনিক শৈলী নয়, বরং জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি ভবিষ্যতে তরুণ সৃষ্টিকর্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ফরাসি সঙ্গীতের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে।
বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের উত্থান ও বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের এই স্বীকৃতি শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষার নতুন মডেল হিসেবে উদাহরণ স্থাপন করবে, যা অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে।



