বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করে। ২৫শে র্যাঙ্কের এশিয়ান এবং বিশ্বে ১২৮তম স্থানে থাকা দলটি, মায়ানমারের ইয়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচই জয়লাভ করে গ্রুপের শীর্ষে বসে অস্ট্রেলিয়ায় আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে এমন এশিয়ান কাপের ১২টি সিটের একটি নিশ্চিত করে।
এই সাফল্য অর্জনের আগে দলটি এক বছর ধরে কোনো জয় না পেয়ে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের হারিয়ে ফেলেছিল। শীর্ষ স্কোরার সাবিনা খাতুনের অনুপস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়; তিনি ফেব্রুয়ারিতে ইংরেজ কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে দল ছেড়ে যান। তবু দলটি প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের যোগ্যতা পায়।
কোচ পিটার বাটলার, যিনি পূর্বে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ছিলেন এবং এশিয়া ও আফ্রিকায় দুই দশকের বেশি সময় ক্লাব ও জাতীয় দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, গত মার্চে জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দলকে নতুন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং তরুণ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দিয়ে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেন। তবে এই পরিবর্তনের ফলে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়; তারা ফেডারেশনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে বাটলারের বরখাস্তের দাবি জানায় এবং তাকে পক্ষপাতদুষ্ট, দলকে বিভক্ত করা এবং ব্যক্তিগত জীবনের ওপর অনুপযুক্ত মন্তব্য করার অভিযোগ করে।
বাটলার এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “এধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলকে কঠোর শৃঙ্খলা আর সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা এখন ফল পেতে শুরু করেছি।” তার মতে, পূর্বে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলার অভাব ছিল, যা উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করছিল। নতুন পদ্ধতি ও কঠোর নিয়মের ফলে খেলোয়াড়রা এখন বেশি মনোযোগী এবং ফলপ্রসূ হয়ে উঠেছে।
ইয়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত তিনটি ম্যাচে বাংলাদেশ দল ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে, যদিও প্রতিপক্ষের নাম মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ত্রয়ী জয়ের মাধ্যমে তারা গ্রুপের শীর্ষে উঠে, এশিয়ান কাপের কুয়ালিফায়ার থেকে সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এমন মূল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অধিকার পায়। এই সাফল্য দলকে প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, যা দেশের নারী ফুটবলের জন্য একটি বড় মাইলফলক।
দলটি ঢাকায় ফিরে আসার পর রাতের বেলা বিশাল ভিড়ের স্বাগত পায়। ভিড়ের মধ্যে উল্লাস, পতাকা ও স্লোগান ভাসছিল, যা দেশের ফুটবলের প্রতি উত্সাহ ও গর্বের প্রকাশ। বাটলার এই মুহূর্তে দলের প্রতি গর্ব প্রকাশ করে বলেন, “আমি খেলোয়াড়দের প্রতি গর্বিত; তারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এখন সাফল্য অর্জন করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দলকে কঠিন সময়ে গড়ে তোলা হয়েছে, এবং এখন তারা ফলের স্বাদ পাচ্ছে।”
এখন দলটি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করবে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে বাটলার নিশ্চিত করেছেন যে দলটি শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে থাকবে। তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের আরও সুযোগ দেওয়ার কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে দলটি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল এই সাফল্যের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। র্যাঙ্কিংয়ের নিচু অবস্থান, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অভাব এবং কোচের প্রতি বিরোধিতা সত্ত্বেও দলটি গ্রুপ শিরোপা জয় করে এশিয়ান কাপের সিট নিশ্চিত করেছে। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও তরুণ প্রতিভা উন্মোচিত করতে এবং দেশের নারী ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



