বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর ৯৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য বিপিন কুমার, বয়স ৩৫, ধর্মনগরের মাহেশপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নিজের অস্ত্রের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনাটি সোমবার গভীর রাতে ঘটেছে এবং আহতকে পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিপিন কুমার রাতের দেরি পর্যন্ত মাহেশপুরে ডিউটি করছিলেন। কাজের সময় অস্ত্র থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলি বেরিয়ে তাকে গুলিবিদ্ধ করে। গুলির সঠিক দিক ও কারণ তদন্তাধীন, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এটি নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন না হয়ে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আহতকে মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২:৩০ টায় ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর, রোগীর অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে মঙ্গলবার সকালেই তাকে আগরতলার জি.বি. প্যান্ট হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা দল রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তক্ষরণের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে চলেছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তাদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে অস্ত্রের নিরাপদ ব্যবহার না হওয়ায় গুলি বেরিয়ে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা। গুলির উৎস, অস্ত্রের মেকানিক্যাল ত্রুটি বা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে একটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের উচ্চতর কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্তকর্তা গুলির রেকর্ড, অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ লগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিবৃতি সংগ্রহ করছেন।
বিএসএফের দায়িত্বের মধ্যে সীমান্ত রক্ষা, অবৈধ প্রবেশ রোধ এবং সশস্ত্র অপরাধের মোকাবিলা অন্তর্ভুক্ত। সদস্যদের নিয়মিত অস্ত্র পরিচালনা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
অধিক তদন্তের পর, স্থানীয় আদালতে মামলাটি দায়ের করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি বা শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে, আহত সদস্যের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃপর্যালোচনা এবং অস্ত্র পরিচালনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ফলাফল জনসাধারণের কাছে জানাতে বলা হয়েছে। ঘটনাটি এখনও চলমান তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই আপডেট প্রদান করা হবে।



