ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (ICG) ২৩ ডিসেম্বর একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ভারত ও বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের কাছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দু’দেশের সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না করার জন্য সতর্কতা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে এবং এই পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সব কনসুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত করেছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি ফলাফল। একই সময়ে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দু উগ্র গোষ্ঠী দ্বারা আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ওপর হামলা ঘটায় সম্পর্কের নিম্নতম স্তরকে চিহ্নিত করা হয়।
ICG-এর সুপারিশে বলা হয়েছে, ভারতকে এমন কোনো বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যা বাংলাদেশে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা পড়তে পারে। তদুপরি, বাংলাদেশি দলগুলোকে ভোটারদের nationalist পয়েন্ট অর্জনের জন্য নিউ দিল্লি‑কে লক্ষ্য করে তীব্র রেটোরিকাল আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জানায়, ভারতের প্রথমে অস্থায়ী সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া, শীখ হাসিনাকে আশ্রয় প্রদান এবং ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশি ঘটনাবলীর নেতিবাচক চিত্রায়ন দু’পাশের মধ্যে রাগের সঞ্চার ঘটিয়েছে। উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি এই উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।
এই বিশ্লেষণটি মার্চ ২০২৫-এ বাংলাদেশে মাঠ গবেষণা, মধ্য‑২০২৫-এ ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার এবং ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দূরবর্তীভাবে বর্তমান ও প্রাক্তন কূটনৈতিক, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, অন্যান্য দেশের দূতাবাসের কর্মী, বিশ্লেষক, গবেষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের ফলাফল।
প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই বাংলাদেশি মিশনগুলো ভারতের বিভিন্ন শহরে আক্রমণের শিকার হয়; দু’দেশের কূটনীতিক একে অপরের দূতকে সমন্বয় করার জন্য ডাকা হয়। বিশেষ করে ডিসেম্বর ২০২৪-এ হিন্দু উগ্র গোষ্ঠী দ্বারা আগরতলায় বাংলাদেশি সহকারী হাইকমিশনের ওপর হামলা ঘটায় সম্পর্কের সর্বনিম্ন বিন্দু চিহ্নিত হয়।
রাজনৈতিক দিক থেকে, বাংলাদেশি জাতীয় দল (Jatiya Dal) ভেঙে গিয়েছে এবং তার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা বিএনপি‑তে যোগদান করেছে। একই সময়ে, এক বিধ্বস্ত মা তার শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমার সন্তান দুপুরের খাবারও খায়নি, তারা তাকে মেরে ফেলেছে,” যা সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার শিকারদের কষ্টকে তুলে ধরে।
নির্বাচনের পূর্বে ICG জোর দিয়ে বলছে, উভয় দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যদি জাতীয়তাবাদী রেটোরিকাল ব্যবহার করে একে অপরকে আক্রমণ করে, তবে তা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই, রেটোরিকাল শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা জরুরি।
প্রতিবেদনটি ভারতের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করে, আওয়ামী লীগে সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান বিতর্কে আরও হস্তক্ষেপ না করা উচিত, যদিও ভারতের কিছু উদ্বেগ বৈধ। দু’দেশের সরকারকে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠন, কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করা এবং নির্বাচনের পূর্বে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যৌথ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
যদি উভয় পক্ষই ICG‑এর সুপারিশ মেনে চলতে পারে, তবে বর্তমান উত্তেজনা হ্রাস পাবে, কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরুদ্ধার হবে এবং বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।



