চীনের ঢাকা দূতাবাস মঙ্গলবার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বল্পমেয়াদি ভিসা প্রক্রিয়ায় আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা এখন থেকে সাময়িকভাবে বাতিল করা হবে। এই পদক্ষেপটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং মূলত ১৮০ দিনের মধ্যে চীনে অবস্থান করার ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য।
দূতাবাসের ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্বল্পমেয়াদি ভিসা (যেমন পর্যটন, ব্যবসা বা সাংস্কৃতিক সফর) আবেদনকারীরা আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট জমা না দিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র সেইসব আবেদনকারীর জন্য, যাঁরা সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত চীনে থাকার অনুমতি চাচ্ছেন।
বিপরীতে, দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদনকারী, যার মধ্যে ডি, জে‑১, কিউ‑১, এস‑১, এক্স‑১ এবং জেড ক্যাটাগরির ভিসা অন্তর্ভুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের মতোই আঙুলের ছাপ সংগ্রহের নিয়ম বজায় থাকবে। এই শর্তের পরিবর্তন না হওয়ার কারণ হল নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা।
চীনের এই নীতি পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য হল ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও সহজতর করা, যাতে ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ বাড়ে। দূতাবাসের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে মানবিক ও বাণিজ্যিক সংযোগকে ত্বরান্বিত করা হবে।
চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে চীনের অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বাংলাদেশে বড় ভূমিকা রাখছে। ভিসা শিথিলকরণ এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দু’দেশের মধ্যে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকে আরও সহজ করবে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, স্বল্পমেয়াদি ভিসার ফিঙ্গারপ্রিন্ট শিথিলকরণ চীনের দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি কূটনৈতিক স্বার্থের প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই ধরনের নরম নীতি বাংলাদেশি ছাত্র, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য চীনের দরজা আরও খোলা রাখবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, ভিসা প্রক্রিয়ার এই সহজীকরণে বাংলাদেশি পর্যটক এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা চীনে প্রবেশের সময় কম সময়ে অনুমোদন পাবে। ফলে দু’দেশের মধ্যে পর্যটন আয় বৃদ্ধি পাবে এবং চীনের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি ভোক্তা বাজারের সম্প্রসারণ ঘটবে। একই সঙ্গে, চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশি ছাত্রদের জন্যও আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জন্য ঢাকা অবস্থিত চীনা ভিসা আবেদন পরিষেবা কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা উচিত। কেন্দ্রের কর্মীরা আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে এবং নতুন শর্তাবলী অনুসারে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
এই নীতি পরিবর্তন ২০২৪ সালের শেষের দিকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বজায় থাকবে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর চীনের দূতাবাস পুনরায় নীতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে কোন পরিবর্তন আনা হবে তা জানাবে। তাই ভিসা আবেদনকারী ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে এই সময়সীমা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা উচিৎ।



