22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতাসনিম জারা ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকার অনুদান লক্ষ্য পূরণ, আর কোনো...

তাসনিম জারা ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকার অনুদান লক্ষ্য পূরণ, আর কোনো তহবিল গ্রহণ না

ঢাকা-৯ আসনের এনসিপি প্রার্থী ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ২৩ ডিসেম্বর রাতারাতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানালেন, তিনি মাত্র এক দিনের মধ্যে ৪৭ লাখ টাকার অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন করেছেন। এই তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রচারণার প্রাথমিক খরচ পূরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা। তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, লক্ষ্য পূরণে সমর্থকদের দ্রুত সাড়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতি নতুন আশা জাগিয়েছে।

প্রার্থীর পোস্টে তিনি বলেন, “আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় আমাদের ফান্ড রেইজিং লক্ষ্য পূরণ করেছেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এখন আর কোনো অতিরিক্ত অনুদান গ্রহণ করা হবে না।” এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তহবিল সংগ্রহের পরবর্তী ধাপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন, যা স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিক প্রচারণার ওপর নির্ভরশীলতা জোরদার করে।

তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে বেশিরভাগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা করছেন। যদিও প্রচলিত ধারণা অনুসারে টাকা দিয়ে ভোট কেনা সম্ভব, তিনি জোর দেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষা থাকা সাধারণ মানুষ নিজের পকেটের টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ক্যাম্পেইনের মূল নীতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রার্থীর মতে, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার বসবাস করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এক প্রার্থী দিনে ১২ ঘণ্টা হাঁটলে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত আলাপ সম্ভব, তবে বাস্তবে দিনে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। পুরো প্রচারণা জুড়ে তিনি প্রায় চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হবেন, ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে তার বার্তা পৌঁছাবে না।

তাসনিম জারা স্বীকার করেন, তিনি পেইড কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভর করতে চান। তিনি বলেন, “টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের জন্য আমরা পেইড স্টাফ ব্যবহার করব না; স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।” এই নীতি তার ক্যাম্পেইনের স্বচ্ছতা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ভিত্তি গড়ে তুলবে।

প্রার্থীর দল উল্লেখ করে, অনেক সমর্থক যদিও সরাসরি ভোটার না হলেও তাদের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতজন ঢাকা-৯ এলাকায় বসবাস করেন। এক পরিচিতের কথাই পোস্টার, ব্যানার বা ব্যয়বহুল প্রচারণার তুলনায় বেশি প্রভাবশালী হতে পারে, এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন। তাছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, অন্য প্রার্থীরা পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণা চালালেও তিনি আইন মেনে তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; তার পরিবর্তে ফোন কলের মাধ্যমে সমর্থন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সমর্থকদের জন্য তিনি দুটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমটি হল, সপ্তাহে চার থেকে আট ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দলবদ্ধভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। দ্বিতীয়টি হল, পোলিং এজেন্ট হিসেবে অথবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা। এই দুইটি পদক্ষেপ তার ক্যাম্পেইনের ভিত্তি গঠন করবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তাসনিম জারার তহবিল সংগ্রহের দ্রুততা এবং স্বেচ্ছাসেবক ভিত্তিক মডেল অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য একটি নতুন মডেল হতে পারে। যদি তার ক্যাম্পেইন সফল হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখনও বড় আর্থিক সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাবে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনের শেষ দিন নিকটবর্তী হওয়ায় তাসনিম জারা এবং তার দল এখন থেকে কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে মনোযোগ দেবে। তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ এবং অতিরিক্ত অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন, যা ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করবে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশ ও প্রশিক্ষণ সেশনগুলো তার ক্যাম্পেইনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে, এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তিনি তার রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারবেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments