যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯০‑এর দশকে জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে মোট আটবার উড়েছেন, তা নিউ ইয়র্কের এক প্রসিকিউটরের জানুয়ারি ৭, ২০২০ তারিখের ইমেইলে প্রকাশিত ফ্লাইট রেকর্ডে স্পষ্ট হয়েছে। এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগের নতুন ডকুমেন্টের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।
ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের উড্ডয়নের মধ্যে কমপক্ষে চারটি ফ্লাইটে এপস্টেইনের সহযোগী ঘিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছে, কারণ তিনি এপস্টেইনের অধীনস্থ কিশোরী মেয়েদের যৌন শোষণে সহায়তা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
ট্রাম্প ২০২৪ সালে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করেন যে তিনি কখনো এপস্টেইনের জেটে উঠেননি এবং তার “বোকা” দ্বীপে যাননি। তবে প্রসিকিউটরের ইমেইলে ট্রাম্পের কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, এবং হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে এই ডকুমেন্ট সম্পর্কে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, এক উড্ডয়নে কেবল এপস্টেইন, ট্রাম্প এবং ২০ বছর বয়সী এক মহিলার উপস্থিতি ছিল; মহিলার নাম গোপন রাখা হয়েছে। আর দুইটি উড্ডয়নে এমন নারী ছিলেন, যাদেরকে ম্যাক্সওয়েল মামলায় সম্ভাব্য সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এপস্টেইনের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ১৯৯০‑এর দশক এবং প্রারম্ভিক ২০০০‑এর দশকে গড়ে উঠেছিল। ট্রাম্পের মতে, এই সম্পর্কের শেষের দিকে তিনি এপস্টেইনের যৌন শোষণ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং ২০০০‑এর মাঝামাঝি সময়ে দুজনের বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়।
এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্কের জন্য যৌন সেবা সংগ্রহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ তাকে যৌন পাচার অভিযোগে অভিযুক্ত করে, তবে তার মৃত্যুর আগে কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি।
ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের এক বিবৃতি অনুযায়ী, এই ডকুমেন্টের কিছু অংশে ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে ফেডারেল তদন্তে অপ্রমাণিত এবং অতিরঞ্জিত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে রেকর্ডে উল্লিখিত উড্ডয়নের সংখ্যা ও যাত্রীদের তথ্য সরকারী ফ্লাইট লগের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই প্রকাশের ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময়ে। বিরোধীরা এই তথ্যকে ব্যবহার করে তার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার ওপর আঘাত হানতে চাইতে পারেন, আর সমর্থকরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যযুক্ত আক্রমণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদিও ইমেইলে ট্রাম্পের কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নেই, তবু এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ উড্ডয়নের সংখ্যা তার জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিদেশ নীতিতে তার সিদ্ধান্তের ওপর এই তথ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রকাশিত ডকুমেন্টে উল্লেখিত উড্ডয়নের তারিখ ও গন্তব্যের বিশদ তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আরও ফাইল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে ন্যায়বিচার বিভাগ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে। বিশেষ করে মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের অতীতের এই দিকটি কীভাবে উপস্থাপিত হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।
সারসংক্ষেপে, নতুন ফ্লাইট রেকর্ডে স্পষ্ট হয়েছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯০‑এর দশকে এপস্টেইনের জেটে আটবার উড়েছেন, যার মধ্যে চারটি উড্ডয়নে ঘিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলও ছিলেন। যদিও কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই, তবু এই তথ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।



