মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠকে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপকে ‘কাউবয় আচরণ’ ও ‘হুমকি’ হিসেবে নিন্দা করেছে। ভেনেজুয়েলা, মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থনে এই বৈঠকের আবেদন জানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি তার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ শোষণ বলে অভিযোগ করেছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বৃহৎ সামরিক উপস্থিতি এবং তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে আটক করার মাধ্যমে আরোপিত নৌব্লকেডকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ট্যাঙ্কারগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তবে ভেনেজুয়েলানরা এটিকে তেল রপ্তানি বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ এই সমালোচনার জবাবে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার গৃহমহাদেশ, সীমান্ত এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপগুলোকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে তেলের মাধ্যমে ‘নারকোটেররিজম, মানব পাচার, হত্যাকাণ্ড ও অপহরণ’ অর্থায়ন করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের তহবিল হিসেবে দেখার কথা উল্লেখ করেছেন।
ক্যারাকাসের সরকার এই অভিযোগকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করে দেশের বিশাল তেল রিজার্ভের উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা, এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে। ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল সংরক্ষণে গর্ব করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তার কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
রাশিয়ার জাতিসংঘের দূত ভাসিলি নেবেঞ্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌব্লকেডকে ‘আক্রমণাত্মক কাজ’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের ‘কাউবয়’ আচরণকে ধারাবাহিকভাবে বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনছে বলে সতর্কতা দিয়েছেন।
চীনের প্রতিনিধি সুন লেইও একতরফা একপক্ষীয়তা ও বুলিংয়ের বিরোধিতা করে, সকল দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় গৌরব রক্ষার পক্ষে তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীনকে ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখার ভূমিকা পালনকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভেনেজুয়েলার দূত স্যামুয়েল মনকাডা পরিষদকে জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কাজ করে এবং ভেনেজুয়েলাকে তার স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। তিনি এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই বৈঠকের পরবর্তী পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিষদ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবিয়ান নীতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অঞ্চলের দেশগুলোও এই উত্তেজনা থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাবের দিকে নজর দেবে, বিশেষত তেল বাজারের অস্থিরতা ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য বাধা।



