মঙ্গলবার রাত ৮:১০ টায় তুরস্কের আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়া ফ্যালকন ৫০ মডেলের বিজনেস জেটটি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ফেরার পথে হাইমানা জেলার কাছাকাছি ধ্বংস হয়ে পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যার মধ্যে লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল‑হাদাদ, প্রাণ হারায়।
বিমানটি রাত ৮:৫২ টায় কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে রেডিও সংযোগ হারায় এবং শেষবার হাইমানা জেলায় জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানায়। টার্কি জেন্ডারমারি (আধা-সামরিক বাহিনী) আঙ্কারা থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে কেসিককাভাক গ্রামাঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করে।
তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া টুইটারে জানিয়েছেন যে উড়ানের সময় কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সাইবার আক্রমণ শনাক্ত করা যায়নি এবং তদন্ত চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, বিমানটি নির্ধারিত রুটে ছিল এবং হাইমানা জেলার কাছাকাছি জরুরি অবতরণ চেয়েছিল।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাবেইবাহ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, এটি জাতির জন্য বড় ট্র্যাজেডি এবং সামরিক ও নাগরিক উভয়ের জন্য অপরিবর্তনীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, আল‑হাদাদ দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক ছিলেন, তার অবদান অমলিন।
আল‑হাদাদকে লিবিয়ার সামরিক ক্ষেত্রে এক অভিজ্ঞ ও পেশাদার নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি গাদ্দাফি শাসনের সময় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘের সমর্থিত ত্রিপোলি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
তার মৃত্যুর ফলে লিবিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া গৃহযুদ্ধের পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
তুরস্ক এবং লিবিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা গভীর হয়েছে। তুরস্কের ত্রিপোলি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক স্বীকৃতি ও সামরিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম দু’দেশের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করেছে। আল‑হাদাদের শেষ সফরই আঙ্কারায় তুর্কি সেনাপ্রধান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ছিল।
এই ঘটনার পর তুর্কি সরকার লিবিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং নতুন কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। লিবিয়ার সরকারও তুর্কি সহায়তা বজায় রাখতে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ইচ্ছুক।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সমাধানে তুরস্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ধরনের দুর্ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর অস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পরবর্তী সপ্তাহে লিবিয়ার সরকার তুর্কি কূটনীতিকদের সঙ্গে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে, জাতিসংঘের ত্রিপোলি সরকারকে সমর্থনকারী অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে লিবিয়ার পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, এই দুর্ঘটনা লিবিয়ার সামরিক নেতৃত্বে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে তুর্কি-লিবিয়ান কূটনৈতিক বন্ধন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এই সংকটকে মোকাবেলা করার মূল ভিত্তি হিসেবে রয়ে যাবে।



