সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেন। দুজন মন্ত্রী রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সামরিক শিল্প সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করেন। আলোচনায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সাক্ষাতে পুতিন ও সিরিয়ার মন্ত্রীরা সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিক সরঞ্জামায় আপডেট করা এবং গবেষণা-উন্নয়ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষের লক্ষ্য হল সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আধুনিক সামরিক শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি, দুজন মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে সিরিয়া-রাশিয়া সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা দু’দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক সংস্থায় সিরিয়ার অবস্থান রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অর্থনৈতিক আলোচনায় সিরিয়া-রাশিয়া পুনর্নির্মাণ প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সিরিয়ায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো উত্থাপিত হয়। রাশিয়া সিরিয়ার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে ইচ্ছুক বলে জানায়।
পুতিন সিরিয়ার ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার প্রতি রাশিয়ার অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আক্রমণকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সরাসরি হুমকি হিসেবে নিন্দা করেন। তিনি এই ধরনের লঙ্ঘনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
সিরিয়ার মন্ত্রীরা রাশিয়ার এই সমর্থনকে সিরিয়ার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেন। তারা রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সিরিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য প্রকাশ করেন।
এই ভ্রমণটি সিরিয়ার নতুন শাসনব্যবস্থার অধীনে রাশিয়ার সঙ্গে সর্বশেষ উচ্চস্তরের বৈঠক। গত ডিসেম্বরের পরে সিরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর এই ধরনের উচ্চস্তরের বৈঠক প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়।
বাশার আল-আসাদের শাসনকালে রাশিয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সমর্থন প্রদান করেছিল। সেই সময় রাশিয়া সিরিয়ার সরকারকে বায়ু শক্তি, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সরবরাহ করে যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলেছিল।
আসাদ শাসনের পর রাশিয়া ও সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমান বৈঠকে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও সামরিক সংলাপকে গভীর করার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক সহযোগিতা বাড়লে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে এবং অঞ্চলের শক্তি সাম্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই ধরণের ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে উদ্বেগও উত্থাপন করতে পারে।
সিরিয়ার মন্ত্রীরা রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে সিরিয়ার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশ কী ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, তা অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে মিলিত হয়ে সামরিক শিল্পে কৌশলগত সহযোগিতা, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক পুনর্নির্মাণের বিষয়গুলোতে সমঝোতা করেন। রাশিয়ার সমর্থন ও সমন্বয় সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



