মারডক পরিবারে দীর্ঘদিনের বিরোধের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রুপার্ট মারডক ও তার কন্যা এলিজাবেথের মধ্যে নেভাডায় বন্ধ আদালতীয় লড়াইয়ের পর একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে এলিজাবেথ এবং তার দুই ভাইবোনকে পারিবারিক মিডিয়া সংস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবারের অভ্যন্তরে সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ে এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার পরিকল্পনা পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
মারডক পরিবারের ঐতিহ্যগত সমাবেশ বিরল, তবে ২০০৮ সালে জীবনীকার মাইকেল ওলফের মতে, পরিবারটি ক্রিসমাসের সময় ব্যক্তিগত ইয়টে একসাথে সময় কাটিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রুপার্ট ও তার কন্যা এলিজাবেথের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর খবর পাওয়া যায়, যেখানে দুজনেই পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখতে একে অপরের সঙ্গে বেশি সময় ব্যয় করতেন।
এলিজাবেথ মারডকের দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম সন্তান এবং তিনি প্রোডাকশন কোম্পানি সিস্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। সিস্টার কোম্পানি “ব্ল্যাক ডোভস”, “দ্য স্প্লিট” এবং “দিস ইজ গোইং টু হার্ট” সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক হিট টেলিভিশন সিরিজের পেছনে রয়েছে। তার নেতৃত্বে কোম্পানিটি উচ্চমানের কন্টেন্ট উৎপাদনে মনোযোগী এবং মিডিয়া বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
বছরের শেষের দিকে এলিজাবেথের কটসওয়াল্ডসের প্রান্তে অবস্থিত নতুন বাড়িতে রুপার্টকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তবে আদালতীয় বিরোধের পরিণতি এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন থেকে বাধা দেয়। একই সময়ে, এলিজাবেথের ছোট ভাই জেমস এবং বড় বোন প্রুডেন্সের সম্পদ প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে বেড়েছে, যা পরিবারিক সম্পদের মোট পরিমাণকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তবে আর্থিক সমৃদ্ধি পিতার সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা পূরণ করতে পারে না।
এই বিচ্ছিন্নতা মিডিয়া শিল্পে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। মারডক পরিবারের মালিকানাধীন নিউজ কর্পোরেশন ও ফক্স নিউজের শেয়ারহোল্ডাররা এখন উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মুখে। এলিজাবেথ ও তার ভাইবোনদের বাদ দেওয়া মানে কোম্পানির শেয়ার বণ্টন ও ভোটাধিকার পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা বাড়ছে, যা শেয়ার মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে। এছাড়া, রুপার্টের ৯০-এর দশকে ব্যবসা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নতুন নেতৃত্বের গ্যাপ তৈরি করতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা বাড়ায়।
বাজার পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যে এই ঘটনার পর শেয়ার মূল্যের সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, যদিও স্পষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উত্তরাধিকার পরিকল্পনার অনিশ্চয়তা মিডিয়া সম্পদের দীর্ঘমেয়াদী মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে এবং সম্ভাব্য অধিগ্রহণ বা বিক্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে, সিস্টার কোম্পানির সৃষ্টিকর্তা হিসেবে এলিজাবেথের বাদ পড়া কন্টেন্ট উৎপাদন চেইনে পরিবর্তন আনতে পারে, যা টেলিভিশন বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে।
মারডক পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে বহুবার টেলিভিশন সিরিজ “সাক্সেশন” এর গল্পের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যদিও এই তুলনা মিডিয়া শিল্পের নাটকীয় দিককে তুলে ধরে, বাস্তব পরিস্থিতি আরও জটিল। পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে, এইবারের বিচ্ছিন্নতা পূর্বের তুলনায় বেশি স্থায়ী হতে পারে এবং পারিবারিক ব্যবসা পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রয়োজন হবে।
ভবিষ্যতে মারডক মিডিয়া সাম্রাজ্যের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে রুপার্টের স্বাস্থ্য, উত্তরাধিকার পরিকল্পনা এবং নতুন নেতৃত্বের গঠনশীলতার ওপর। যদি পারিবারিক সংহতি পুনরুদ্ধার না হয়, তবে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিকল্প কৌশল, যেমন অংশীদারিত্বের পুনর্বিন্যাস বা সম্পদের বিক্রয়, বিবেচনা করা হতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো মিডিয়া বাজারে শেয়ার মূল্যের ওঠানামা, কন্টেন্ট উৎপাদনের গতি এবং বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, রুপার্ট মারডক ও তার কন্যা এলিজাবেথের মধ্যে আদালতীয় বিরোধের ফলে পারিবারিক ব্যবসা থেকে একাধিক সদস্যের বাদ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই ঘটনা মিডিয়া শিল্পের কাঠামো, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ কন্টেন্ট উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। পারিবারিক সংহতি পুনরুদ্ধার না হলে, মারডক সাম্রাজ্যকে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান এবং বাজারের পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে।



