যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ (ডিজি) মঙ্গলবার ১১,০০০ের বেশি নথি নিয়ে এপস্টেইন মামলার সর্বশেষ ও বৃহত্তম তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ করেছে। এই প্রকাশটি নতুন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে করা হয়, যা মৃত পেডোফিলিক আর্থিক বিশ্লেষক জেফ্রি এপস্টেইনের তদন্তের সব ফাইল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে বাধ্য করে।
প্রকাশিত নথিগুলোর বেশিরভাগই লাল চিহ্ন দিয়ে গোপন করা হয়েছে; এতে নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ফেডারেল ব্যুরো (এফবিআই) যে কয়েকজনকে সম্ভাব্য সহ-অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাদের নামও অদৃশ্য করা হয়েছে। এই রেডাকশন নিয়ে উভয় রাজনৈতিক দিকের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ তুলেছেন, কারণ আইন স্পষ্টভাবে বলে যে গোপনীয়তা কেবলমাত্র ভুক্তভোগীর সুরক্ষা বা চলমান অপরাধমূলক তদন্তের জন্যই প্রযোজ্য।
এই নতুন ফাইলের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম পূর্বের প্রকাশের তুলনায় বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ উল্লেখ মিডিয়া ক্লিপের রূপে, তবে একটি উল্লেখযোগ্য ইমেইল একটি ফেডারেল প্রসিকিউটরের থেকে এসেছে, যেখানে ট্রাম্প এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করে উড়ে গেছেন বলে উল্লেখ আছে। ন্যায়বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে কিছু ফাইলে ট্রাম্প সম্পর্কে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত দাবি রয়েছে। তবে এপস্টেইন ফাইলে নাম উল্লেখ করা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত হওয়া নয়; এই বিষয়ে বিএসসি মন্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।
প্রকাশিত নথির মধ্যে ২০০১ সালের একটি ইমেইল বিশেষ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রেরককে “এ” (A) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তিনি গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলকে, যিনি ২০২২ সালে নাবালকদের যৌন পাচার ও অন্যান্য অপরাধে ২০ বছর কারাদণ্ড পেয়েছেন, লিখেছেন। ইমেইলে “এ” উল্লেখ করেছেন যে তিনি “বালমোরাল সামার ক্যাম্প ফর দ্য রয়্যাল ফ্যামিলি”-এ আছেন এবং ম্যাক্সওয়েলকে জিজ্ঞেস করেছেন, “আপনি কি আমাকে নতুন অনুপযুক্ত বন্ধু খুঁজে দিতে পারবেন?”। একই দিনের পরে ম্যাক্সওয়েল উত্তর দিয়েছেন, যেখানে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন যে তিনি শুধুমাত্র “উপযুক্ত” বন্ধুদেরই খুঁজে পেয়েছেন।
এই ইমেইলটি “abx17@dial.pipex.com” ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছে এবং প্রেরকের নাম “দ্য ইনভিজিবল ম্যান” (The Invisible Man) হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে। ইমেইলের বিষয়বস্তু এবং প্রেরকের পরিচয় উভয়ই ফাইলের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে হাইলাইট করা হয়েছে, যদিও অন্যান্য অংশে তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।
ডিজি এই ফাইলের কিছু অংশে অযথা ও অতিরঞ্জিত দাবি রয়েছে বলে স্বীকার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে, ফাইলের গোপনীয়তা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় বিভাগটি বলেছে যে গোপনীয়তা বজায় রাখতে তারা আইনগত সীমার মধ্যে কাজ করছে।
এই প্রকাশের ফলে এপস্টেইন মামলায় নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, বিশেষ করে ট্রাম্পের উড্ডয়ন এবং “এ” ও ম্যাক্সওয়েলের ইমেইল বিনিময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে নথিগুলোর বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সহ-অপরাধীদের সনাক্তকরণে অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএসসি এবং অন্যান্য মিডিয়া সংস্থা এই নথিগুলোর ভিত্তিতে আরও বিশদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য তথ্য সংগ্রহে লিপ্ত হয়েছে। তবে এপস্টেইন ফাইলের গোপনীয় অংশের কারণে পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়, এবং ভবিষ্যতে আরও ফাইল প্রকাশের মাধ্যমে অতিরিক্ত তথ্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।
এই মুহূর্তে, ন্যায়বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ফাইলের বিষয়বস্তু নিয়ে আইনগত ও নৈতিক দিক থেকে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগী ও চলমান তদন্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, জনসাধারণের জন্য স্বচ্ছতা বজায় রেখে তথ্যের যথাযথ প্রকাশ নিশ্চিত করা হবে।



