যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারী প্রায় এক পঞ্চমাংশ, যেখানে ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সরকারী নীতি মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি পোপ লিও১৪ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ পেয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংরক্ষণবাদী ক্যাথলিক পডকাস্টার জেসি রোমেরো পোপের মন্তব্যকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে ধর্মীয় দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকতে এবং সরকারী বিষয় থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানান, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ অভিবাসন নীতি নিয়ে তার বিরোধ প্রকাশ করেন।
রোমেরো, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক, পোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের দ্বারা ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাসন নীতি সমালোচনার প্রতি রাগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, পোপের মন্তব্য সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ক্যাথলিক ভোটারদের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যে স্পষ্ট। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং আইনগত কর্মী লিওনার্ড লিও ট্রাম্পের নির্বাচনী সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া, মার্কো রুবিও এবং লিন্ডা ম্যাকমাহনসহ কয়েকজন ক্যাথলিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ক্যাবিনেটে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিবাসন নীতি এখন ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সরকারী নীতির মধ্যে একটি তীব্র ফাটল তৈরি করেছে। এই ফাটল কেবল সরকার ও ক্যাথলিক গির্জার মধ্যে নয়, সাধারণ পারিশদের মধ্যেও মতবিরোধের সৃষ্টি করেছে।
মে মাসে কার্ডিনালদের পাপাল কনক্লেভে অংশগ্রহণের সময় রোমেরো ‘ট্রাম্পের মতো পোপ’ের আশা প্রকাশ করেন, যা তিনি বিশ্বাস করতেন ট্রাম্পের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে পোপ লিও১৪ের নির্বাচনের পর তিনি এমন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেননি।
পোপ লিও১৪ের প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্যগুলোতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নভেম্বর মাসে এই বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তার আহ্বান জানান এবং মথি সুসমাচার থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বিদেশীকে কীভাবে গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এক সপ্তাহ পর, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলন (USCCB) একটি বিরল “বিশেষ বার্তা” জারি করে। এই বার্তায় তারা অভিবাসীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং “ভয় ও উদ্বেগের পরিবেশ”কে উল্লেখ করে।
বিশপরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে তারা ব্যাপক নির্বাসন নীতি ও মানবিকতা হ্রাসকারী ভাষা ও সহিংসতার বিরোধিতা করে। তারা সকল ক্যাথলিককে এই বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান।
এই বিশেষ বার্তা দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়, যা USCCB-র অভ্যন্তরীণ নীতি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। পোপ লিও১৪ এই বার্তাটিকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করে, এবং সকল ক্যাথলিক ও সাধারণ জনগণকে এই বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করেন।
পোপের এই অবস্থান ও বিশপদের সমন্বিত বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণকে শক্তিশালী করে। সরকারী পক্ষ থেকে এই মন্তব্যগুলোর প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে এই ধর্মীয় চাপ নীতি পরিবর্তনের দিকে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতে, ক্যাথলিক ভোটারদের ভোটের প্রভাব এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রকাশিত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও নির্বাচনী কৌশলে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। পোপ ও USCCB-র এই পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিকশিত হবে তা নজরে থাকবে।



