অস্ট্রেলিয়ার তরুণ গায়ক দ্য কিড লারোই তার ২০২১ সালের হিট ডুয়েট ‘স্টে’ নিয়ে গীতিকবিতার দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। টুইচের ‘দ্য রোড টু বিফোর আই ফরগেট’ স্ট্রিমে তিনি জানিয়ে দেন, গানটির সব লিরিক্স তিনি লিখেছেন, শুধুমাত্র জাস্টিন বিবারের অংশটি বিবারই রচনা করেছেন।
এই গানের সৃষ্টিতে চার্লি পুথের নামও যুক্ত, তবে লারোই উল্লেখ করেন যে পুথ গানের সুর গঠন ও প্রোডাকশন সহায়তা করেছেন, গানের লিরিক্সে তার কোনো অবদান নেই। কিছু অনলাইন মন্তব্যে পুথ পুরো গানটি লিখেছেন বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল, যা লারোই স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেন।
‘স্টে’ গ্রীষ্মের হিট হয়ে ২০২১ সালে বিলবোর্ড হট ১০০ ও গ্লোবাল ২০০ উভয় তালিকায় শীর্ষে পৌঁছায়। গানের সাফল্য ২০২২ সালের বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে পাঁচটি পুরস্কার জিততে সহায়তা করে, যার মধ্যে শীর্ষ স্ট্রিমিং গান ও শীর্ষ সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, এই ট্র্যাকটি হট ১০০-এ ৪০ সপ্তাহ শীর্ষ দশে অবস্থান করে, যা ঐ তালিকায় প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
লারোই ১৭ বছর বয়সে গানের লিরিক্স রচনা করার সময় গর্বের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিজের কাজের স্বীকৃতি না পেয়ে মানুষ গানের মালিকানা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করলে তিনি হতাশ হন। তবু তিনি গানের সৃষ্টিতে যুক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রতিটি লাইন তারই লেখা, তবে পুরো প্রক্রিয়ায় সবাই অবদান রেখেছে।
গানের সাফল্যের পর, লারোই ২০২২ সালে সায়ারসিএক্সএমের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে পুথের সুর গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন। পুথ গানের কর্ড প্রগ্রেশন তৈরি করে, যা লারোই ও বিবারের গীতিকবিতার সঙ্গে মিলে গানের চূড়ান্ত রূপ নেয়। তবে পুথের এই অবদানকে লারোই গানের লিরিক্সের অংশ হিসেবে গণ্য করেন না।
‘স্টে’ গানের জনপ্রিয়তা এবং লারোইয়ের গীতিকবিতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় সামাজিক মিডিয়ায় বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পায়। কিছু ভক্ত লারোইয়ের গানের লেখকত্বকে স্বীকৃতি দেন, আবার অন্যরা পুথের প্রোডাকশন দক্ষতাকে গুরুত্ব দেন। লারোই এই বিতর্কে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য স্ট্রিমে সরাসরি কথা বলেন।
গানের সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে লারোই তার পরবর্তী অ্যালবাম ‘বিফোর আই ফরগেট’ প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই অ্যালবামটি ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে এবং এটি তার দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য রেকর্ড। পূর্বের অ্যালবাম ‘দ্য ফার্স্ট টাইম’ ২০২৩ সালে বিলবোর্ড ২০০-এ ২৪ নম্বরে পৌঁছেছিল, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
‘বিফোর আই ফরগেট’ অ্যালবামের টিজার হিসেবে লারোই ইতিমধ্যে দুটি ট্র্যাক প্রকাশ করেছেন। তার প্রধান সিঙ্গেল ‘এ কোল্ড প্লে’ শিরোনামের গানটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই গানের শিরোনামকে একটি রোমান্টিক ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
লিরিক্সের স্বত্ব নিয়ে লারোইয়ের স্পষ্টীকরণ শিল্পের সৃষ্টিকর্তা অধিকার এবং সহযোগিতার স্বচ্ছতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গানের সৃষ্টিতে প্রত্যেকের অবদান স্বীকৃত হওয়া উচিত, তবে লিরিক্সের ক্ষেত্রে তারই দায়িত্ব।
এই বিবৃতি প্রকাশের পর, সামাজিক নেটওয়ার্কে লারোইয়ের মন্তব্যের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভক্তরা তার গানের লেখকত্বকে সম্মান জানিয়ে মন্তব্যে তার সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে, শিল্পের অন্যান্য সৃষ্টিকর্তা এই ধরনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
‘স্টে’ গানের সাফল্য এবং লারোইয়ের গীতিকবিতার স্বীকৃতি তাকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত বাজারে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে তিনি আরও স্বতন্ত্র সৃষ্টিকর্মের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা তার তরুণ ভক্তদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, দ্য কিড লারোই ‘স্টে’ গানের লিরিক্সের পুরো দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়েছেন এবং জাস্টিন বিবারের অংশটি বাদে অন্য সব লাইন তিনি রচনা করেছেন। গানের সাফল্য, চার্লি পুথের প্রোডাকশন অবদান এবং লারোইয়ের গর্বের অনুভূতি এই তথ্যগুলোকে একত্রে উপস্থাপন করে, তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে চিহ্নিত করে।



