ঢাকা, বাংলাদেশ‑চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্রের স্টার ইলেকশনস ডায়ালগে গতকাল চারটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা একত্রিত হয়ে দুর্নীতি-মুক্ত সমাজ গঠন, সকল নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শাসনে স্বচ্ছতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম “আপনার পার্টি, ভোটারদের প্রশ্ন” এবং এটি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সংগঠিত করেছে; আলোচনাটি কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ মডারেট করেন।
বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিতি থেকে দেশব্যাপী সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহে ঘটিত ঘটনা মানুষকে নির্বাচন বাস্তবায়ন হবে কিনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। ফখরুলের মতে, নির্বাচনের সুযোগ পঞ্চদশ বছর ধরে চলমান আন্দোলন, রক্তপাত, দমন ও কষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশকারী নাহিদ ইসলাম ‘এএল প্রশ্ন’ সত্য কমিশনের মাধ্যমে সমাধান না হওয়ায় দেশের কষ্ট বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জনগণ সর্বদা নির্বাচনকে মূল্য দেয়, তবে গত পনেরো বছর ধরে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠেছে যেখানে মানুষকে নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে হয় বলে মনে হয়।
কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম পরিকল্পনা কমিশনের এয়ার-কন্ডিশনড কক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নীতি ও পরিকল্পনা তল থেকে উঠে আসা দরকার, না হলে তা কার্যকর হবে না।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে, বাংলাদেশ হাই কমিশন, নিউ দিল্লিতে কনসুলার ও ভিসা সেবা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে। একই সময়ে, বাংলাদেশ জাতীয় দল ভেঙে গিয়ে তার নেতা ও সদস্যরা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এছাড়া, এক অজানা সূত্র থেকে প্রকাশিত একটি উক্তিতে বলা হয়েছে, “আমার সন্তান দুপুরের খাবারও খায়নি, তারা তাকে হত্যা করেছে,” যা দেশের মানবিক সংকটের গভীরতা নির্দেশ করে।
এইসব ঘোষণার পটভূমিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অব্যাহত অস্থিরতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। নেতারা একত্রে ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে, ফখরুলের মন্তব্য অনুসারে, জনগণের মধ্যে এখনও নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে ভোটার অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
দলগুলোর অঙ্গীকারের মধ্যে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা নীতি নির্ধারণে তল থেকে উপরে পর্যন্ত সমন্বয় ও জনমতকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অবশেষে, স্টার ইলেকশনস ডায়ালগের সমাপ্তি একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি দিয়ে হয়েছে যে, দেশের শাসনব্যবস্থার উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক শক্তি একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধা ছাড়াই চালু থাকে এবং জনগণকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ শাসন নিশ্চিত করা যায়।



