একটি ইমেইল, যেখানে গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলকে ‘অনুপযুক্ত বন্ধু’ সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে, এপস্টেইন সম্পর্কিত ১১,০০০‑এর বেশি ফাইলের নতুন অংশে প্রকাশিত হয়েছে। এই ইমেইলটি ১৬ আগস্ট ২০০১ তারিখে পাঠানো হয় এবং প্রেরককে ‘A’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রেরক নিজেকে বালমোর গ্রীষ্মকালীন শিবিরে রয়েছেন বলে উল্লেখ করে, যেখানে রয়্যাল ফ্যামিলির সদস্যদের জন্য ক্যাম্প পরিচালিত হয়।
ইমেইলের বিষয়বস্তুতে প্রেরক গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েলকে “লস এঞ্জেলেসে কী অবস্থা? নতুন অনুপযুক্ত বন্ধু খুঁজে পেয়েছ কি?” এমন প্রশ্ন করে এবং শেষে “see ya A xxx” লিখে পাঠায়। এই বার্তাটি “abx17@dial.pipex.com” ইমেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছে এবং শিরোনাম ছিল “The Invisible Man”। একই দিনে ম্যাক্সওয়েল উত্তর দেয়, যেখানে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে তিনি শুধুমাত্র “উপযুক্ত” বন্ধু খুঁজে পেয়েছেন।
প্রেরকের পরিচয় স্পষ্ট না হলেও, এই ঠিকানার সঙ্গে আরেকটি ইমেইল ঠিকানা “aace@dial.pipex.com” যুক্ত রয়েছে, যা এপস্টেইনের ফোনবুকে “Duke of York” লেবেলে তালিকাভুক্ত। উভয় ঠিকানায় “The Invisible Man” উপনাম ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো মঙ্গলবার প্রকাশিত ফাইলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মোট ১১,০০০‑এর বেশি ডকুমেন্ট ও ইমেইল অন্তর্ভুক্ত।
ফাইলের আরেকটি অংশে ফেব্রুয়ারি ২০০২ সালের ইমেইল বিনিময় দেখা যায়, যেখানে পার্সোনাল ট্রিপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ম্যাক্সওয়েল “abx17@dial.pipex.com” ঠিকানায় একটি ইমেইল ফরোয়ার্ড করেন, যেখানে “Juanesteban Ganoza” নামের প্রেরক পারুতে একটি সফরের বিবরণ পাঠিয়েছেন। সেই ইমেইলে লাঞ্চ, ঘোড়া চড়া ইত্যাদি কার্যক্রমের প্রস্তাব রয়েছে এবং সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি উল্লেখ করা হয়েছে।
বালমোর ক্যাসল, যা রয়্যাল ফ্যামিলির গ্রীষ্মকালীন বাসস্থান, এই ইমেইলে উল্লেখিত হয়েছে, তবে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় পরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের দলকে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে তিনি পূর্বে কোনো দোষ স্বীকার করেননি এবং এপস্টেইনের গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্তের সঙ্গে কোনো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।
এই ইমেইলগুলো প্রকাশের পর, মিডিয়া ও আইনগত বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে ফাইলগুলোতে থাকা তথ্যগুলো এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে। এপস্টেইন মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির ইমেইল ও যোগাযোগের রেকর্ড প্রকাশিত হওয়ায়, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত তথ্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।
প্রকাশিত ডকুমেন্টগুলোতে দেখা যায়, গিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের মধ্যে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক যোগাযোগের প্রমাণ নেই, তবে ইমেইলগুলোতে ব্যবহৃত শব্দভাণ্ডার ও উপনামগুলো তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বর্তমানে এই বিষয়টি যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে রয়েছে এবং অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ইমেইলগুলো প্রকাশের ফলে এপস্টেইন ফাইলের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং জনসাধারণের মধ্যে রয়্যাল ফ্যামিলি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সংযুক্ত সম্ভাব্য যোগাযোগের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে এই ডকুমেন্টগুলো কীভাবে ব্যবহার হবে এবং কোন নতুন তথ্য প্রকাশ পাবে, তা সময়ই বলবে।



