স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদীয় প্রার্থী ব্যতীত অন্য কোনো নাগরিকের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সের আবেদন গ্রহণ করা যাবে না। নির্দেশটি মঙ্গলবারের মধ্যাহ্নে প্রকাশিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, এখনো কোনো আবেদন তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌঁছায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আবেদন জমা দিলেই লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান হবে না; জেলা প্রশাসক আবেদনগুলো যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। অনুমান করা হচ্ছে যে, প্রায় পনেরোটি রাজনৈতিক আবেদন এবং পঁচিশটি সরকারি কর্মকর্তার আবেদন রয়েছে। তবে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
আবেদন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে আবেদন প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের শর্তাবলী চূড়ান্ত করা হবে।
গানম্যান (নিরাপত্তা কর্মী) সংক্রান্ত তথ্যও একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবারের আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ ২০ জন নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তাদেরকে সরকারীভাবে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গানম্যান প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম গোপন রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি।
একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, গানম্যান সিভিল ড্রেসে সজ্জিত নিরাপত্তা কর্মী। কাকে গানম্যান প্রদান করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তবে তার সঠিকতা বা ভুলতা সম্পর্কে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেছেন যে, এই বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে বিবেচনা করবে।
গানম্যানের ইউনিফর্ম পরিধান সম্পর্কেও কোনো আপত্তি প্রকাশ করা হয়নি, কারণ সেসব কর্মী দৃশ্যমানভাবে সজ্জিত থাকে এবং তাদের উপস্থিতি স্বাভাবিক।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের ফলে রাজনৈতিক ও সংসদীয় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের আগ্নেয়াস্ত্র অধিকার সীমিত করা হবে। ভবিষ্যতে এই নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর প্রভাব কী হবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
প্রতিটি জেলা প্রশাসক এখনো আবেদনগুলো যাচাই করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হলে তা কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবেলা এবং নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু রাখার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। রাজনৈতিক ও সরকারি প্রার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।



