মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় একটি বাস ডিবি পুলিশ পরিচয়ে থামানো হয় এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী লিটন পালের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে নয় লাখ টাকা ও একটি স্মার্টফোন নেওয়া হয়।
লিটন পাল, ৪০ বছর বয়সী, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর গ্রাম থেকে আসা একজন স্বর্ণ বিক্রেতা, ঢাকা শহরে স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহের পর নিজের গ্রামে ফেরার পথে ছিলেন।
পাল গুলিস্তান থেকে চালিত একটি প্রচেষ্টা পরিবহনের বাসে চড়ে পাচ্চরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শ্রীনগরের ছনবাড়ি ফ্লাইওভারের ওপর পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস সামনে এসে ব্যারিকেড স্থাপন করে, এরপর চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে বাসে উঠে পালকে একটি মামলার আসামি বলে দাবি করে।
পরে পালকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। মাইক্রোবাসে নিয়ে গিয়ে অপরাধীরা তাকে মারধর করে এবং স্বর্ণ বিক্রির জন্য সংগ্রহ করা ৯,৫২,০০০ টাকা ও একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
অপরাধের পর পালকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর উত্তর থানার কুমারভোগ এলাকায় রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়।
পাল ঘটনাস্থল থেকে শ্রীনগর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
শ্রীনগর থানার ওয়্যারড অফিসার জুয়েল মিয়া জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার প্রচেষ্টা চলছে।
থানা কর্তৃপক্ষের মতে, ডিবি পুলিশের পরিচয়ে বাস থামিয়ে অপরাধ করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিক তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করা হবে। আইন অনুসারে, পরিচয় নকল করে অপরাধ করা এবং চুরি করা উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
অধিক তথ্যের জন্য শ্রীনগর থানা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।



