ভেনেজুয়েলা জাতীয় পরিষদ মঙ্গলবার একটি আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবরোধ ও সমুদ্রদস্য্য সমর্থক বা তহবিল সরবরাহকারী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ বিশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে। এই আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত তেল ট্যাঙ্কার জব্দের পর দ্রুত গৃহীত হয়, যা মাদুরোর সরকারকে অবৈধ সমুদ্রদস্য্য হিসেবে বিবেচনা করে।
আইনটি উপস্থাপনকারী গুইসেপ্পে আলেসসান্দের্লো উল্লেখ করেন, নতুন বিধানটি জাতীয় অর্থনীতির সুরক্ষা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান হ্রাস রোধের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, অবরোধের আর্থিক সহায়তা বন্ধ না করলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এতে ল্যাটিন আমেরিকায় বিশাল সামরিক উপস্থিতি, তেল ট্যাঙ্কার জব্দ, সন্দেহভাজন মাদক পাচার জাহাজে আকাশীয় আক্রমণ এবং ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে সম্ভাব্য স্থল আক্রমণের হুমকি অন্তর্ভুক্ত। এই আক্রমণগুলোর কিছু আন্তর্জাতিক জলে ট্যাঙ্কার জব্দের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের মুখে, অন্যদিকে সন্দেহভাজন মাদক জাহাজে আক্রমণকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অবৈধ বলে গণ্য করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অপারেশন বিমান এবং মালামালবাহী বিমান ক্যারিয়ারসহ সৈন্যবাহিনী ক্যারিবিয়ানে মোতায়েন করেছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখে প্রকাশ পায়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ আমেরিকায় সর্ববৃহৎ নৌবহর গঠন করা হয়েছে, যা পূর্বে কখনো না দেখা একটি আকারের।
মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তার শাসনকে উখাদে ফেলা এবং দেশের বিশাল তেল সংরক্ষণ দখল করার পরিকল্পনা হিসেবে ব্যাখ্যা করে। ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করে যে, জব্দ করা তেল এবং ট্যাঙ্কারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে রয়ে যাবে। মাদুরো এই দাবিকে মিথ্যা এবং স্বার্থপর বলে খণ্ডন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের ক্যাম্পেইন ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর দমনমূলক পদক্ষেপের জন্য একটি যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা গুলো জানায়, জুলাই ২ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্টিয়াল নির্বাচনের পর থেকে মাদুরোর সরকার আরও কঠোর দমন নীতি গ্রহণ করেছে।
এই আইন ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলেছে। সরকার দাবি করে, কঠোর শাস্তি আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে অবরোধের প্রভাব কমাতে সহায়তা করবে, তবে সমালোচকরা সতর্ক করেন যে, এটি রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত দমনমূলক ব্যবস্থা বাড়াতে পারে।
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষের উচ্চারণ ও সামরিক প্রস্তুতি দেখায় যে, এই সংঘাতের পরিণতি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।



