টুর্কি ইন্টারিয়র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদ ও চারজন সহযাত্রী নিয়ে ফ্যালকন ৫০ ব্যবসায়িক জেটটি অ্যানকারা থেকে ত্রিপলিতে যাওয়ার পথে রেডিও সংযোগ হারিয়েছে। সংযোগ হারানোর সময় ছিল রাত ৮:৫২ (১৭:৫২ GMT), যা টুর্কি সময়ে রাত ৮:১০ (১৭:১০ GMT) টেক-অফের প্রায় এক ঘন্টা পরে ঘটেছে।
মন্ত্রীর এক্স-এ পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানটি আ্যানকারার হায়মানা জেলায় অতিক্রম করার সময় জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রেডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বিমানটি এসম্বোগা বিমানবন্দর থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য পথে মোড় নেয়া দেখা যায়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, জেটটি এসম্বোগা বিমানবন্দরের দিকে আসার পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী রুটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা জরুরি অবতরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে বিমানটি শেষ পর্যন্ত কোন স্থানে অবতরণ করেছে বা ধ্বংস হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
টুর্কি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ফুটেজে রেডিও সংযোগ হারানোর মুহূর্তে আকাশে এক ঝলক দেখা যায়, যা কিছু বিশ্লেষককে সম্ভাব্য ইঞ্জিন ব্যর্থতা বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
লিবিয়ার কোনো সরকারি দপ্তর থেকে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং লিবিয়ার পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
টুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্বে জানিয়েছিল, আল-হাদ্দাদের অ্যানকারা সফরটি এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি তুর্কি সামরিক মন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই সফরটি লিবিয়ার ত্রিপলি সরকার ও তুর্কির মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল।
অ্যানকারা, তুরস্কের রাজধানী, জাতিসংঘের স্বীকৃত ত্রিপলি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং লিবিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুর্কি সরকার দীর্ঘদিন থেকে লিবিয়ার জাতীয় সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ঘটনার ফলে লিবিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং তুর্কি-লিবিয়ান কূটনৈতিক সম্পর্কের কিছু সংবেদনশীল দিক পুনরায় মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। তুর্কি কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্তের ইচ্ছা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এই ঘটনার দিকে ঘুরে গেছে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “যদি জেটটি সত্যিই জরুরি অবতরণে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে তা লিবিয়ার সামরিক নেতৃত্বের চলমান মিশন ও তুর্কি সমর্থনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের ঘটনা উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে সতর্কতামূলক করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত বিমান নিরাপত্তা প্রোটোকল গড়ে তোলার প্রয়োজন বাড়াবে।”
টুর্কি সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করে, যা বিমানটির শেষ অবস্থান নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতায় এই অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লিবিয়ার সরকারী দপ্তরও নিজস্ব তদন্তের কথা প্রকাশ করতে পারে।



