ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী মঙ্গলবার সিভের্স্ক নামক পূর্বের যুদ্ধে জর্জরিত শহর থেকে প্রত্যাহার করেছে। রাশিয়ার সামরিক শক্তি ক্রমশ বাড়ার ফলে ইউক্রেনের কমান্ডাররা সৈন্যদের প্রাণ রক্ষা ও ইউনিটের যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়ান বাহিনীর মানবশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য অবস্থানটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিভের্স্কের পতন রাশিয়াকে ডোনেটস্ক অঞ্চলের শেষ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শহর – স্লোভিয়ান্সক ও ক্রামাটোরস্কের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, যেগুলো এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই শহরগুলোকে প্রায়ই “কোটা বেল্ট” বলা হয়, যা রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একই রাতে রাশিয়ান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণে তিনজন নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি ছোট শিশু অন্তর্ভুক্ত। এই আক্রমণগুলো সিভের্স্কের আশেপাশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের অংশ হিসেবে ঘটেছে।
রাশিয়া ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করে এবং বর্তমানে প্রায় ২০% ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে সিভের্স্কের হার ইউক্রেনের সামগ্রিক কৌশলগত অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী রাশিয়ান সৈন্যরা সিভের্স্ক অঞ্চলে “সক্রিয় আক্রমণমূলক কার্যক্রম” চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও তারা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি ভোগ করেছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই লড়াইয়ে তারা শত্রুকে ক্লান্ত করে তুলেছে, তবে অবশিষ্ট শক্তি যথেষ্ট নয়।
সিভের্স্কের জনসংখ্যা আক্রমণের আগে প্রায় ১১,০০০ ছিল। দুই সপ্তাহ আগে রাশিয়া শহরের উপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছিল। তবে এখন রাশিয়ান সেনা শহরের অধিকাংশ অংশে উপস্থিত, যা দীর্ঘমেয়াদী গুলিবর্ষণ ও বোমাবর্ষণের ফলে শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে।
ডোনেটস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৭৫% এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্কে ৯৯% পৌঁছেছে। এই দুই অঞ্চলকে সম্মিলিতভাবে ডনবাস বলা হয়, যা ইউক্রেনের শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার নেতৃত্বে বারবার ইউক্রেনীয় সৈন্যদের ডনবাস থেকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন, না হলে রাশিয়া পুরো অঞ্চলটি দখল করবে বলে সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি কোনো সমঝোতা বা সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে আছেন, যিনি ডনবাসের সম্পূর্ণ হস্তান্তরকে শান্তি আলোচনার শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করছেন। জেলেনস্কি এখনো কোনো ভূখণ্ডীয় ছাড় স্বীকার করেননি এবং যেকোনো চুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠোর শর্ত দাবি করছেন।
ওয়াশিংটন-নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনাগুলো এখনও চলমান, যেখানে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা ভবিষ্যৎ সমাধানের পথ খুঁজতে চেষ্টা করছে। তবে সিভের্স্কের সাম্প্রতিক পতনকে রাশিয়ার কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পরবর্তী আলোচনার বিষয়বস্তুতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ইউক্রেনের সীমানা রক্ষা ও মানবিক সংকট মোকাবিলার দিকে কেন্দ্রীভূত। সিভের্স্কের ধ্বংসযজ্ঞ এবং সামরিক অবস্থা উভয়ই ইউক্রেনের নিরাপত্তা নীতি ও ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



