বহুপ্রশংসিত অভিনেতা‑প্রযোজক সোহুম শাহ ২০২৪ সালে তার ২০১৮ সালের হরর থ্রিলার ‘টুম্ববাড’ পুনঃপ্রদর্শনের মাধ্যমে বিশাল বক্স‑অফিস সাফল্য অর্জন করেন। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে তিনি একই ধারার সিক্যুয়েল ‘টুম্ববাড ২’ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পাশাপাশি হরর প্রেমিকদের জন্য নতুন কিছু পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি তিনি রামসী ব্রাদার্সের ১৯৮০‑৯০ দশকের তিনটি আইকনিক হরর চলচ্চিত্র ‘ভীরানা’, ‘পুরানি হাভেলি’ এবং ‘পুরানা মন্দির’ এর অধিকার নিজের কোম্পানি সোহুম শাহ ফিল্মস‑এ স্থানান্তরিত করেছেন।
‘টুম্ববাড’ পুনঃপ্রদর্শনটি মূল মুক্তির পর দশ বছর পার হওয়ার পরেও দর্শকের তীব্র সাড়া পেয়েছে, যার ফলে টিকিট বিক্রি পূর্বের রেকর্ড ভাঙে। চলচ্চিত্রের পুনরায় প্রকাশে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে শত শত স্ক্রিনে চলা দেখা যায় এবং নগদ আয় পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছায়। এই প্রত্যাশিত ফলাফল সোহুমের দলকে ভবিষ্যৎ প্রকল্পে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
সোহুমের দল ইতিমধ্যে ‘টুম্ববাড ২’ এর প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে মূল চরিত্রের গভীরতা বাড়িয়ে নতুন গল্পের মোড় যোগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সিক্যুয়েলটি মূল কাহিনীর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন চরিত্র ও অতীতের গোপনীয়তা উন্মোচন করবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হরর জগতের বিস্তৃত মহাবিশ্ব গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
রামসী ব্রাদার্সের ক্লাসিক হরর চলচ্চিত্রের অধিকার অর্জন সোহুমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরণের পুরনো হরর ফিল্মের পুনঃপ্রকাশ বা রিমেক করা বর্তমান বাজারে লাভজনক হতে পারে। অধিকার ক্রয়ের মাধ্যমে তিনি মূল কন্টেন্টের সৃজনশীল ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের কাছে এই ক্লাসিকগুলো পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
‘ভীরানা’, ‘পুরানি হাভেলি’ ও ‘পুরানা মন্দির’ এর মতো শিরোনামগুলো ১৯৮০‑৯০ দশকের হরর জগতের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সোহুমের দল এই চলচ্চিত্রগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গল্পের কাঠামো দিয়ে পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ শুদ্ধ হরর হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যাতে দর্শকরা অতিরিক্ত হাস্যকর উপাদান ছাড়া মূল ভয় অনুভব করতে পারেন।
হরর জেনারের বর্তমান প্রবণতা বেশিরভাগই হরর‑কমেডি দিকে ঝুঁকেছে, যা সোহুমের মতে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে শুদ্ধ হরর চলচ্চিত্রের জন্য এখনও বিশাল দর্শকগোষ্ঠী রয়েছে, যারা পূর্বাভাসযোগ্য গল্পের পরিবর্তে নতুন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা চান। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি হররকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
সৃজনশীল দিক থেকে হরর জেনারকে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্বাধীনতা হিসেবে বর্ণনা করেন। হরর চলচ্চিত্রে ভয়, অন্ধকার এবং অপ্রত্যাশিত মোড়ের মাধ্যমে দর্শকের মনোভাবকে প্রভাবিত করা যায়, যা অন্যান্য ধারার তুলনায় বেশি স্বতন্ত্র। সোহুমের মতে, এই স্বাধীনতা তাকে নতুন কাহিনী, চরিত্রের পটভূমি এবং ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবে।
‘টুম্ববাড’ ইতিমধ্যে একটি স্বতন্ত্র মহাবিশ্ব গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রিক্যুয়েল, সিক্যুয়েল এবং চরিত্রের ব্যাকস্টোরি বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সোহুম এই মহাবিশ্বকে আরও বিস্তৃত করতে চান, তবে রামসী ব্রাদার্সের চলচ্চিত্রগুলোকে একই ইউনিভার্সে যুক্ত করা হবে কিনা তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। তিনি উল্লেখ করেন যে ভবিষ্যতে এই দুই ধারার সংমিশ্রণ সম্ভব হতে পারে, তবে তা সময়ের সাথে নির্ধারিত হবে।
‘ক্র্যাজি’ নামের নতুন প্রকল্পটি সোহুম শাহ ফিল্মসের আরেকটি বড় উদ্যোগ, যা ৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে থিয়েটারে মুক্তি পাবে। এই চলচ্চিত্রের মোশন পোস্টার ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ‘ক্র্যাজি’ হরর জেনারের নতুন দিক অনুসন্ধান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট কাহিনী এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
সোহুমের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো হরর জেনারের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। রামসী ব্রাদার্সের ক্লাসিকগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন দৃষ্টিকোণ দিয়ে পুনর্নির্মাণ করলে পুরনো ভক্ত এবং নতুন দর্শক উভয়েরই আগ্রহ জাগবে। পাশাপাশি ‘টুম্ববাড ২’ এবং ‘ক্র্যাজি’ এর মতো প্রকল্পগুলো হরর জগতের বৈচিত্র্য বাড়াবে।
সর্বোপরি, সোহুম শাহের এই পদক্ষেপগুলো হরর চলচ্চিত্রের বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দর্শকদের জন্য শুদ্ধ ভয়ের অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। তার ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৃজনশীল উদ্যম হরর জেনারকে পুনরায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পগুলো কীভাবে বিকশিত হবে তা শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



