লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ১৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, যার ফলে বিএনপি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলালের আট বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা আক্তার বিনতি প্রাণ হারায়। একই সময়ে তার দুই বড় মেয়ে, ১৭ বছর বয়সী সালমা আক্তার স্মৃতি ও ১৪ বছর বয়সী সামিয়া আক্তার বিথি দগ্ধ হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। বাড়ির ভিতরে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে স্মৃতির দেহের প্রায় নব্বই শতাংশ পুড়ে যায় এবং তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে বিথির দেহে মাত্র দুই শতাংশ পুড়েছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণে রয়েছে।
মৃত্যু ও আঘাতের পরপরই বেলাল মামলাটি লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় দায়ের করেন। থানা ওসিরা ওয়াহিদ ফারভেজের মতে, মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ওপর অর্পণ করা হয়েছে।
থানার ওসি জানান, মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হওয়ার পর থেকে তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আগুনের উৎস নির্ণয় এবং সম্ভাব্য সাক্ষী সংগ্রহে কাজ করছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।
বিএনপি নেতার পরিবার এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে, তবে প্রকাশ্যভাবে কোনো মন্তব্য না করে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়ির ভিতরে কোন বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাস লিক বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটেছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে। একই সঙ্গে, বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি সাড়া প্রদান প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, মামলাটি ফৌজদারি দায়ের অধীনে দাখিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত দায়িত্ব প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, লক্ষ্মীপুরের অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীও নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে বাড়িতে অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
অধিকন্তু, আহত দুই মেয়ের চিকিৎসা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞরা জানান, স্মৃতির শারীরিক ক্ষতি গুরুতর হলেও সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী আপডেট থানা ওসিরা ওয়াহিদ ফারভেজের মাধ্যমে জানানো হবে। মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পূর্বে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার ফলে লক্ষ্মীপুরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



