ইসরায়েলি পার্লামেন্ট মঙ্গলবার আল জাজিরা আইনকে দুই বছরের জন্য বাড়িয়ে দেয়, যা জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করার অনুমতি দেয়। একই সময়ে সরকার আরামি রেডিও নেটওয়ার্ক, যা দুইটি সরকারি তহবিলপ্রাপ্ত সংবাদ চ্যানেলের একটি, বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। উভয় পদক্ষেপের লক্ষ্য সরকারকে তার কার্যক্রমের উপস্থাপনায় অধিক নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা।
আল জাজিরা আইনটি গাজা যুদ্ধের শুরুর সময় প্রণয়ন করা হয়েছিল, মূলত আল জাজিরা চ্যানেলের ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সম্প্রচার বন্ধ করতে। আইনটি সম্প্রতি পুনঃঅনুমোদিত হয়ে দুই বছর অতিরিক্ত সময় পেয়েছে, ফলে সরকারকে নিরাপত্তা যুক্তি দিয়ে বিদেশি মিডিয়ার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করার আইনি ভিত্তি প্রদান করে।
আরামি রেডিও, যা ইসরায়েলের সরকারি তহবিল থেকে পরিচালিত হয় এবং দেশের অন্যতম প্রধান রেডিও সংবাদদাতা, এখন বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই স্টেশনটি প্রায়ই ডানপন্থী গোষ্ঠীর সমালোচনার মুখে পড়ে, কারণ তারা এটিকে সরকারবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনকারী হিসেবে দেখে।
ইসরায়েলি জনগণ এখনও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল; প্রায় অর্ধেক মানুষ টেলিভিশন সম্প্রচার থেকে বর্তমান ঘটনাবলি জানে, আর প্রায় তৃতীয়াংশ রেডিও শোনার মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ করে। এই মিডিয়া চ্যানেলগুলোর কণ্ঠস্বর ও দৃষ্টিভঙ্গি জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গাজা যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনি বেদনাকে সীমিতভাবে উপস্থাপন করা এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা জনমতকে যুদ্ধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। এই ধরনের নির্বাচনী সম্প্রচার কেবল যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় না, বরং সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননের মতো প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
বিনামিনস্ত্রের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন সরকার, যা ডানপন্থী রঙে রাঙানো, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণকে আইনগত বাধা অতিক্রম করে আরও বিস্তৃত করতে চায়। সরকারে এমন মন্ত্রী রয়েছেন, যাদের পূর্বে ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং যারা পশ্চিম তীরের অবৈধ সংযুক্তিকরণে বারবার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের মতে, গাজা যুদ্ধের সময় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া অতিরিক্ত সমালোচনামূলক হয়ে উঠেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাই তারা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণকে নিরাপত্তা রক্ষার একটি উপায় হিসেবে উপস্থাপন করে। এই যুক্তি নিয়ে সরকার মিডিয়া সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে।
এই পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলে সংবাদস্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সরকার আইনগত চেকপয়েন্টগুলোকে উপেক্ষা করে মিডিয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ভবিষ্যতে, আল জাজিরা আইন এবং আরামি রেডিও বন্ধের সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা ও প্রয়োগের ওপর আদালত ও মানবাধিকার সংস্থার নজরদারি বাড়বে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি, মিডিয়া সংস্থাগুলোকে বিকল্প প্ল্যাটফর্মে তথ্য সরবরাহের জন্য নতুন কৌশল গড়ে তুলতে হতে পারে।
মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের এই নতুন পর্যায়ে, ইসরায়েলি নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও সরকারের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার তীব্রতা বাড়বে। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে মিডিয়া স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হবে।



