22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের বিস্তৃতি

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের বিস্তৃতি

২০২৫ সালে গাজা, ইউক্রেন, ইরান‑ইসরায়েল, ভারত‑পাকিস্তান এবং সুদানে সংঘটিত যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় একসাথে বিশ্বকে অশান্ত করেছে। গাজা‑ইসরায়েল সংঘাতে ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে গাজার নগর এলাকায় শত শত বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের পর ফিলিস্তিনিদের জন্য ২০২৫ সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর, মোট নিহতের সংখ্যা ৭০,০০০‑এর বেশি।

গাজার ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ত্রাণ কর্মীরা জানিয়েছেন, মৌলিক খাবার, পানি ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া কঠিন, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজা অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে বাধা পেয়েছে, ফলে মানবিক সংকট বাড়ছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে “বিশ্বের আটটি যুদ্ধ বন্ধ” এবং “লাখো প্রাণ রক্ষা” করার দাবি করা হয়েছিল, তবে ইউক্রেন‑রাশিয়া সংঘাতে তার নীতি পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে; ট্রাম্পের শাসনকালে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা হ্রাস পায়, ফলে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আটকে আছে, যার সমাধান ২০২৫ সালের মধ্যে দেখা যায়নি। পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ট্রাম্পের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলে রাশিয়া‑ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক সংঘাতে সরাসরি মুখোমুখি হয়; উভয় পক্ষই পারস্পরিক মূল ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, ফলে বহু নাগরিকের ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের “মিডনাইট হ্যামার” অপারেশন ইরানের পারমাণবিক সুবিধা লক্ষ্য করে, যা অঞ্চলে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

দক্ষিণ এশিয়ায়, পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ভারত ও পাকিস্তান চার দিনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। উভয় দেশই সীমান্তে বড় আকারের সৈন্যবাহিনী মোতায়েন করে, এবং সীমান্তে তেজস্ক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই উত্তেজনা হ্রাসে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। আফ্রিকায়, সুদান ২০২৫ সালে বৃহত্তম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দেশের সামরিক বাহিনী ও আধাসামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাত লক্ষাধিক মানুষকে স্থানচ্যুতি ঘটিয়েছে, এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব দেখা দিচ্ছে। জাতিসংঘের ত্রাণ কর্মসূচি সীমিত সম্পদে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে শরণার্থী ক্যাম্পে রোগের বিস্তার দ্রুত বাড়ছে এবং শিশুরা মৌলিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত।

এই বহু-মুখী সংঘাত ও মানবিক দুরবস্থার পরিণতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দেন। গ্লোবাল নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তার ত্বরান্বিত ব্যবস্থা, এবং সংঘাতমুক্তি প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিতকরণ আগামী বছরগুলোর অগ্রাধিকার হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত, ২০২৫ সালের যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় বিশ্বকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে সমন্বিতভাবে সংঘাতের মূল কারণ মোকাবেলা করবে এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে এই বছরের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments