ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরিচালক রব কী এই সপ্তাহে জানিয়েছেন যে, নোসা বিশ্রামকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত মদ্যপান করার অভিযোগ নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করা হবে। এই পদক্ষেপটি অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় অ্যাশেস টেস্টের আগে নেওয়া হয়েছে।
অ্যাশেস সিরিজে ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড ৩-০ স্কোরে পিছিয়ে আছে, অস্ট্রেলিয়ার হাতে ধারাবাহিক পরাজয় মুখোমুখি হয়েছে। প্রথম তিনটি টেস্টে ধারাবাহিক পরাজয় দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
অভিযোগের মূল সূত্র একটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে এসেছে, যেখানে ব্যাটসম্যান বেন ডাকেটের মদ্যপান অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি দ্রুতই ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে, এবং দলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে।
রব কী উল্লেখ করেছেন, “যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে, আমরা তা যথাযথভাবে তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
এ পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় বা কোচের কাছ থেকে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও সীমিত রাখা হয়েছে। তবে দলীয় কর্মকর্তারা মিডিয়ার প্রশ্নের মুখে সংযত রয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।
ECB-র তদন্তে সম্ভাব্যভাবে দলের ব্যবস্থাপনা, সহায়ক স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলাফল অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
নোসা বিশ্রামকাল ছিল ট্যুরের মাঝখানে নির্ধারিত একটি স্বল্পমেয়াদী বিরতি, যেখানে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সময়ের সুযোগ দেওয়া হয়। কোয়েনস্ল্যান্ডের এই সমুদ্রতটীয় শহরে দলটি প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম দুটোই সমন্বয় করে কাটিয়েছে।
বিরতির সময় খেলোয়াড়রা সাধারণত সমুদ্রসৈকতে হাঁটা, স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খাবার উপভোগ করা এবং হালকা ব্যায়াম করার সুযোগ পায়। তবে মদ্যপানের অভিযোগের ফলে এই স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর সন্দেহের ছায়া পড়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কেউ তা অবহেলা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেন। বিশ্লেষকরাও এই ঘটনার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে, বিশেষত সিরিজের বাকি অংশে মনোযোগের সম্ভাব্য ক্ষতি উল্লেখ করেন।
ইংল্যান্ডের ক্যাম্প পূর্বে ফোকাস এবং পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছে, এবং এই ধরনের ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতএব, তদন্তের ফলাফল দলের মনোবল ও পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যাশেসের তৃতীয় টেস্ট অডিলেডে নির্ধারিত, যেখানে দুই দল আবার মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা, এবং ফলাফল সিরিজের চূড়ান্ত রেকর্ড নির্ধারণ করবে।
বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। ইংল্যান্ডের জন্য এই সময়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে শেষ টেস্টে সম্ভাব্য সাফল্য অর্জন করা যায়।



