গ্লাস্টনবেরি সঙ্গীত উৎসবে জুন মাসে বব ভাইল্যান নামের পাঙ্ক‑র্যাপ জুটি যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে “ডেথ, ডেথ” চ্যান্ট গাইছিল, তখন তা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। এ ঘটনার পর, এভন ও সামারসেট পুলিশ জানিয়ে দেয় যে, এই মন্তব্যগুলো কোনো অপরাধের সীমা অতিক্রম করে না এবং কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর ভিত্তি নেই।
ব্যান্ডের প্রধান গায়ক পাসকেল রবার্টসন‑ফস্টার, যাকে ববি ভাইল্যান নামে পরিচিত, গানের মাঝখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গাজা অঞ্চলের যুদ্ধকে “হত্যার যন্ত্র” বলে চিৎকার করে। তার এই চ্যান্টটি গ্লাস্টনবেরি পারফরম্যান্সের লাইভস্ট্রিমে যুক্ত বিবিসি চ্যানেলে প্রচারিত হয় এবং দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এভন ও সামারসেট পুলিশ তদন্তের সময় জানায় যে, চ্যান্টটি কোনো অপরাধমূলক থ্রেশহোল্ডে পৌঁছায়নি। তারা উল্লেখ করে, প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে যা কোনো দোষী প্রমাণের সম্ভাবনা তৈরি করে না, ফলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা সম্ভব নয়।
তদন্তে প্রায় ২০০ জন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পুলিশ চ্যান্টের উৎস ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক প্রমাণে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
বিবিসি, যা গ্লাস্টনবেরি কভারেজের অংশ হিসেবে চ্যান্টটি সরাসরি সম্প্রচার করেছিল, পরবর্তীতে প্রকাশ করে যে, তারা এই ধরনের “অপমানজনক ও নিন্দনীয়” বিষয় সম্প্রচার করার জন্য ক্ষমা চায়। তাদের অভিযোগ বিভাগ জানায় যে, সম্প্রচার নীতি লঙ্ঘন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুতে ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা চ্যান্টের উদ্দেশ্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট আইনি পূর্বধারণা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা বিভিন্ন আইনি পরামর্শ গ্রহণ করে, যাতে সিদ্ধান্তটি যথাযথ ও সঠিক হয়।
বিবিসি ও পুলিশ উভয়ই জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ঘটনার ফলে সমাজে ব্যাপক রাগ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। তারা উল্লেখ করে, কথার প্রভাব বাস্তব জীবনে কতটা গভীর হতে পারে, তা এই ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
গ্লাস্টনবেরি পারফরম্যান্সের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বব ভাইল্যানের ভিসা বাতিল করে দেয় এবং অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া পরিকল্পিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করে দেয়। এই পদক্ষেপের ফলে ব্যান্ডের আন্তর্জাতিক ট্যুর পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়।
বব ভাইল্যান একই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টার আরটিইএর বিরুদ্ধে মানহানিকর মামলা দায়ের করেছে। তারা দাবি করে যে, আরটিইই তাদের গ্লাস্টনবেরি পারফরম্যান্সে অ্যান্টি‑সেমিটিক চ্যান্টের অভিযোগ করেছে, যা বাস্তবে ঘটেনি এবং তাদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জুলাই মাসে ব্রিটিশ পুলিশ একই ধরনের একটি তদন্তও বন্ধ করে দেয়, যা পূর্বে গ্লাস্টনবেরি ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল। এই সিদ্ধান্তগুলোকে ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকাশনা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি হয়।
বিবিসি, পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার এই পদক্ষেপগুলোকে শিল্প ও সংস্কৃতির স্বায়ত্তশাসন ও আইনি সীমারেখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, সমাজে শব্দের প্রভাব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করেছে।
বব ভাইল্যানের গ্লাস্টনবেরি পারফরম্যান্স এবং তার পরবর্তী আইনি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, সঙ্গীত শিল্পের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের সীমা এবং জনমত গঠনে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কে কীভাবে নীতি ও আইন প্রয়োগ হবে, তা নজরে থাকবে।



