১৯৮৯ সালের শীতকালীন ছুটিতে ‘ন্যাশনাল ল্যাম্পুনের ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ নামে একটি কমেডি চলচ্চিত্র থিয়েটারে প্রকাশিত হয়। এই ছবিটি আমেরিকান চিত্রনাট্যকার জন হিউজের রচনা এবং হাস্যকর পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। চলচ্চিত্রটি ছুটির মৌসুমের চাপ ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার ওপর সূক্ষ্ম মন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
চেভি চেজ ক্লার্ক ডব্লিউ. গ্রিসওল্ড চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি পরিবারের প্রধান এবং ছুটির প্রস্তুতিতে সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে চান। র্যান্ডি কোয়েড এডি চরিত্রে উপস্থিত, যিনি ক্লার্কের স্বামী-সঙ্গী এবং অপ্রত্যাশিত মন্তব্যের মাধ্যমে হাস্যরস যোগ করেন। দুজনের পারস্পরিক কথোপকথন ছবির অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য গঠন করে।
একটি দৃশ্যে এডি, যিনি শপিং মলে ক্লার্কের সঙ্গে হালকা আলাপ করেন, হঠাৎই কোম্পানির ভারতীয় কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। ক্লার্কের উত্তরটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যঙ্গাত্মক: তিনি জানান যে তারা সেই ছাঁটাই থেকে বাদ পড়েছে। এই সংলাপটি ছবির মধ্যে সামাজিক বাস্তবতা ও কর্পোরেট সিদ্ধান্তের অন্ধকার দিককে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে।
এই সংলাপটি ছুটির সময়ের অপ্রত্যাশিত আর্থিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়। পরিবারিক আনন্দের পেছনে কাজের নিরাপত্তা ও চাকরির হুমকি কীভাবে ছায়া ফেলতে পারে, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট হয়। ফলে দর্শকরা ছুটির আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব জীবনের কঠিন দিকগুলোও অনুভব করতে পারেন।
চলচ্চিত্রের রচনায় হাস্যরসকে গল্পের মূল কাঠামোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জটিল প্লটের পরিবর্তে ধারাবাহিক কৌতুক ও পাঞ্চলাইন দিয়ে দর্শকের মনোযোগ বজায় রাখা হয়েছে। ফলে ছবিটি দ্রুতই দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেয় এবং ছুটির সময়ের স্ট্রেসকে হালকা করে উপস্থাপন করে।
একটি উল্লেখযোগ্য কৌতুক হল যখন ক্লার্ক একটি বৃষ্টির নিকাশীকে নিয়ে মন্তব্য করেন, “এটি যদি গ্যাসে পূর্ণ হয়, তবে পঞ্চাশ ফুটের মধ্যে মোমবাতি জ্বালানো ব্যক্তির প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।” এই ধরনের রসিকতা ছবির সামগ্রিক হালকা স্বরকে শক্তিশালী করে।
‘ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৌতুকপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। হিউজের রচনায় এই চলচ্চিত্রটি সর্বোচ্চ মাত্রার হাস্যরস ধারণ করে, যা পূর্বের ‘ভ্যাকেশন’ সিরিজের তুলনায় অধিক পরিমাণে পাঞ্চলাইন ও দৃশ্যকল্পে প্রকাশ পায়।
জন হিউজের অন্যান্য জনপ্রিয় কাজের মধ্যে ‘ফেরিস বুলার’স ডে অফ’ এবং ‘প্লেনস, ট্রেনস অ্যান্ড অটোমোবাইলস’ উল্লেখযোগ্য। যদিও এই ছবিগুলোরও হাস্যরসের উপাদান সমৃদ্ধ, তবু তাদের মূল কাঠামো গল্পের বিকাশে বেশি নির্ভরশীল। ফলে ‘ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ থেকে ভিন্ন ধাঁচের কমেডি হিসেবে তারা স্বীকৃত।
‘ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ এর পর হিউজ ১৯৯০ সালে ‘হোম আলোন’ লিখে, যা দ্রুতই সর্বোচ্চ আয়কারী কমেডি চলচ্চিত্রগুলোর একটি হয়ে ওঠে। এই ছবির সাফল্য হিউজের ক্যারিয়ারে নতুন দিক উন্মোচন করে এবং পরিবারিক থিমে আরও গভীরতা যোগ করে।
‘হোম আলোন’ এর বাণিজ্যিক সাফল্য হিউজকে আরও বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে এবং ছুটির সময়ের পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ফলে ‘ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ এর মতো হালকা হাস্যরসের পাশাপাশি গভীর আবেগময় উপাদানও যুক্ত হয়।
১৯৮০-এর দশকে ‘ভ্যাকেশন’ সিরিজের তিনটি চলচ্চিত্রে ‘ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ অন্যতম। এই সিরিজের অন্যান্য অংশগুলোও হিউজের রচনায় অন্তর্ভুক্ত, তবে ‘ক্রিসমাস ভ্যাকেশন’ তার অনন্য কৌতুক ঘনত্বের জন্য আলাদা স্বীকৃতি পায়।
আজকের দিনে এই চলচ্চিত্রটি ছুটির সময়ের চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং সামাজিক বাস্তবতার মিশ্রণকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। হিউজের রচনাশৈলী এবং চরিত্রগুলোর স্বাভাবিকতা এই ছবিকে সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।



