২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে গুণীজন সম্মাননা ২০২৫ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দেশের নীতি, ব্যবসা ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। সম্মানপ্রাপ্ত হলেন মৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী (মরণোত্তর), আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরি।
অনুষ্ঠানটি বাণিক বার্তা এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) যৌথভাবে আয়োজন করে। উভয় সংস্থা গুণীজন সংবর্ধনা সিরিজের অষ্টম সংস্করণ হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করে, যা দেশের সৃজনশীল শক্তিকে স্বীকৃতি দেয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও বিজ্ঞান‑প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি তিনজনকে সম্মানিত করার গর্ব প্রকাশ করে বলেন, মঞ্জুর এলাহী ব্যবসা‑বাণিজ্যে, আমিরুল ইসলাম গবেষণা ও শিক্ষায় এবং ফিরদৌসী কাদরী বিজ্ঞান ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি যোগ করেন, এমন স্বপ্নদর্শী ব্যক্তিরা বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী সম্পর্কে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান স্মরণ করেন, তিনি নিঃশব্দে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করেছেন। এপেক্সকে শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে তিনি দেশের বাণিজ্যিক শক্তিকে দৃঢ় করেছেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও তাকে মৃদুভাষী ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করেন, যার নেতৃত্বে বহু উদ্যোগ সফল হয়েছে।
অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণে তার প্রাক্তন ছাত্র ও সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মন্তব্য শোনা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, চৌধুরি স্যার অত্যন্ত নীতিবান এবং সেবামূলক স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। উপাচার্য অবস্থায় তিনি কখনোই অফিসের গাড়ি ব্যবহার না করে, স্থানীয় বাসে যাতায়াত করতেন, যা তার সরলতা ও জনসেবার প্রতি নিষ্ঠা প্রকাশ করে।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান রংপুরের মঙ্গাপীড়িত অঞ্চলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় চৌধুরীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি গড়ে তুলতে চৌধুরীর নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য ছিল, যা আজকের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।
ড. ফিরদৌসী কাদরীর ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরি তার বিজ্ঞানকে মানুষের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাদরী গবেষণায় যে নিষ্ঠা ও উদ্যম দেখিয়েছেন, তা দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার কাজের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে সমাজের সেবা হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক অনুষ্ঠান সমাপ্তির সময় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গুণীজন সম্মাননা দেশের সৃজনশীল শক্তিকে উজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি ভবিষ্যতে আরও এমন ব্যক্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্যম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।
গুণীজনের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, নীরব পরিশ্রম, নৈতিকতা এবং সমাজসেবার মনোভাবই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার্থীরা যদি এই মানদণ্ডকে নিজের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তারা নিজের ক্ষেত্রেই দেশকে গর্বিত করতে পারবে। আপনার লক্ষ্য কী, এবং কীভাবে আপনি আপনার দক্ষতাকে সমাজের মঙ্গলে ব্যবহার করতে পারেন?



