আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ মঙ্গলবার বিচারক মো. শফিউল আলম মাহমুদ, চিফ প্রোসিকিউটর তাজুল ইসলামকে আদালতের শিষ্টাচার রক্ষা না করার জন্য তীব্রভাবে সতর্ক করেন। একই সময়ে ট্রাইব্যুনাল ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উচ্চপ্রোফাইল মামলায় রিভিউ পিটিশন দাখিলের জন্য তিন মাসের সময় বাড়ানোর আবেদন শোনে।
রক্ষা পক্ষের আইনজীবী তাবারক হোসেন ভূইয়ান, সাতজন অভিযুক্তের প্রতিনিধিত্ব করে, উল্লেখ করেন যে বিশাল পরিমাণ নথি পর্যালোচনা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং পিটিশন প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সময়সীমা না থাকলে ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
এই আবেদনটি ত্রিবিধ বিচারক সমন্বিত প্যানেলে, বিচারক মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ফ্রেম করার পরই উপস্থাপিত হয়। অভিযোগে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসর) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ১১জন সেনা কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত, যাদের রাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (TFI) সেল-এ গৃহীত জবরদস্তি ও নিখোঁজের অভিযোগ রয়েছে, যা আওয়ামী লীগ শাসনকালে সংঘটিত বলে দাবি করা হয়।
বিচারক শফিউল, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ পিটিশন দাখিলের সম্ভাবনা উল্লেখ করে, প্রোসিকিউটরের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি প্রোসিকিউটরকে ধৈর্য ধরতে এবং আদালতে এমন ভাষা ব্যবহার না করতে আহ্বান জানান, যা আদালতের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রোসিকিউটরের নির্দেশনা মেনে চলা কি সম্ভব, এবং এ ধরনের আচরণ থেকে তিনি প্রত্যাশা করেন না।
প্রোসিকিউটর তাজুল ইসলাম, বিচারকের মন্তব্যে উত্তেজিত হয়ে উঠে বলেন, রিভিউ পিটিশনের জন্য সময় বাড়ালে মামলাটি স্থবির থাকবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রায় না শোনা পর্যন্ত কোনো আদেশ দেওয়া যাবে না, এবং প্রোসিকিউটরের মতামত শোনা অপরিহার্য।
বিচারক শফিউল দ্রুতই স্পষ্ট করেন, তিনি কোনো আদেশ জারি করেননি, বরং কেবল একটি মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়, তবে ট্রাইব্যুনাল তা বিবেচনা করতে পারে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলাকে স্থগিত করবে না।
এই তীব্র কথোপকথন ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালীর মধ্যে প্রোসিকিউশন ও রক্ষা পক্ষের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম যুক্ত থাকায় এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির কারণে রাজনৈতিক প্রভাবও অনিবার্য। বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হলে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই জনমত গঠন ও নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে।
পরবর্তী ধাপে ট্রাইব্যুনাল রিভিউ পিটিশনের সময় বাড়ানোর অনুরোধের উপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। যদি অনুরোধ মঞ্জুর হয়, রক্ষা পক্ষকে অতিরিক্ত সময়ে পিটিশন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হবে, আর প্রোসিকিউশনকে তার যুক্তি পুনরায় উপস্থাপন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন মামলাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে থাকবে, এবং বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য উভয় পক্ষেরই সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।



