বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল প্রকাশ করেছে। দলের অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘদিনের ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুনকে পুনরায় নির্বাচিত করা হয়েছে, আর সহ-অধিনায়ক হিসেবে মাতসুশিমা সুমাইয়া নিযুক্ত হয়েছে। এই স্কোয়াডের গঠন, বাদ পড়া খেলোয়াড় এবং টুর্নামেন্টের গুরুত্ব সবই একসাথে জানানো হয়েছে।
সাবিনা খাতুনের ক্যাপ্টেনশিপের সময়কাল বেশ দীর্ঘ; তিনি বহু বছর জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। তবে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে মতবিরোধের পর তিনি দলের তালিকা থেকে বাদ পড়ে, ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার উপস্থিতি থেমে যায়। এই বিরতির পরও তিনি ফুটসালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে, প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে এবং দল গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
ফুটসাল ক্যাম্পে সাবিনার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া এবং কৃষ্ণা রানী সরকার, যারা দেশের ফুটসাল ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ। এই তিনজনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দলের সামগ্রিক শক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্যাম্পের প্রশিক্ষণ সেশনগুলোতে ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতি, শারীরিক ফিটনেস এবং ম্যাচ সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের সূচনা হবে ১৩ জানুয়ারি, ব্যাংককে প্রথমবারের মতো এই ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এ টুর্নামেন্টে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ দেশগুলো মুখোমুখি হবে, এবং বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় পুনরায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান পুনর্নির্মাণ করতে চায়। টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ম্যাচের বিবরণ এখনো সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি, তবে দল প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
বিএফএফের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২২ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বিজয়ী দলের সদস্য মার্জিয়া এবং দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা মিশরাত জাহান মৌসুমীও চূড়ান্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই দুই খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলের পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা উন্নতি খাতুন, নাসরিন আক্তার ও সেজুতি ইসলাম স্মৃতি চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে নির্বাচনের মানদণ্ডে ফিটনেস, ফর্ম এবং ট্যাকটিক্যাল উপযোগিতা বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০১৮ সালে এশিয়ান কাপ ফুটসাল বাছাই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে, এবং সেই সময়েও সাবিনা খাতুন অধিনায়কত্বে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সাত বছর পর, নারী ফুটসাল দল আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসছে, এবং এইবারও ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব সাবিনার ওপরই রাখা হয়েছে।
দল গঠনের সময়, বাফুফে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, নতুন খেলোয়াড়ের সংযোজনের বদলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শক্তিশালী হয়। এছাড়া, দলকে সমর্থন করার জন্য কোচিং স্টাফ ও ফিজিক্যাল থেরাপিস্টদের দলও প্রস্তুত রয়েছে।
স্কোয়াডের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে: সাবিনা খাতুন (ক্যাপ্টেন), মাতসুশিমা সুমাইয়া (সহ-ক্যাপ্টেন), মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকার, লিপি আক্তার, মেহেনুর আক্তার, রাত্রি মনি, সুমি খাতুন, নওসিন জাহান, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, মিশরাত জাহান মৌসুমী, মার্জিয়া, সাথী বিশ্বাস, ইতি রানী এবং স্বপ্না আক্তার জুলি। এই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন ক্লাব ও আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আসছেন।
বিএফএফের মতে, এই স্কোয়াডের গঠন দলকে ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা, আক্রমণাত্মক শক্তি এবং রক্ষামূলক স্থিতিশীলতা প্রদান করবে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বিশেষভাবে সেট-পিস, পজিশনিং এবং দ্রুত পাসিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক ফুটসাল গেমের মূল চাবিকাঠি।
টুর্নামেন্টের আগে দলকে আরও দুই-তিনটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচের মাধ্যমে ফর্ম টেস্ট করা হবে, যাতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের সূক্ষ্মতা নির্ণয় করা যায়। এই ম্যাচগুলোতে স্থানীয় ক্লাব ও অন্যান্য দেশের দলকে মুখোমুখি করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা হবে।
সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার এই মুহূর্তটি দেশের ক্রীড়া জগতে নতুন উদ্যমের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলটি প্রস্তুত, লক্ষ্য স্পষ্ট এবং দেশের সমর্থন তাদের পেছনে রয়েছে।



