ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইস্রায়েল ক্যাটজ মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার কখনো হবে না বলে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জানিয়ে বলেন, গাজা জুড়ে ইসরায়েলি সৈন্যবাহিনী উপস্থিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে উত্তর গাজায় নাহাল ব্রিগেডের আউটপোস্ট গড়ে তোলা হবে। এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত শীতকালীন শান্তি পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে গাজা থেকে সম্পূর্ণ সামরিক প্রত্যাহার এবং নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
ক্যাটজের মতে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার গভীর অংশে অবস্থান করছে এবং “গাজার সব অংশে আমরা কখনোই সরে যাব না” বলে তিনি জোর দেন। তিনি যুক্তি দেন, এই উপস্থিতি গাজা জনগণকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে। নাহাল ইউনিটের আউটপোস্টগুলোকে তিনি “উদ্ভূত বসতিগুলোর পরিবর্তে” গড়ে তোলার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা পূর্বে উচ্ছেদ করা বসতিগুলোর স্থানে স্থাপন করা হবে।
বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরে ক্যাটজ ইংরেজি ভাষায় রয়টার্সকে একটি বিবৃতি পাঠান, যেখানে তিনি নাহাল ইউনিটগুলোকে “শুধু নিরাপত্তা কারণেই” গাজায় স্থাপন করা হবে বলে জানান। এই বিবৃতি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ক্যাটজের প্রাথমিক মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং স্পষ্টীকরণ চায়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়া গাজা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আন্তর্জাতিক প্রত্যাশা এবং পরিকল্পনার সঙ্গে বিরোধের ইঙ্গিত দেয়।
নাহাল ইউনিটগুলো হল এমন সামরিক গঠন, যেখানে নাগরিক সেবা এবং সামরিক দায়িত্ব একসাথে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে এই ইউনিটগুলো ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের গঠন ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্যাটজের পরিকল্পনা অনুসারে, এই ইউনিটগুলো গাজার উত্তর অংশে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলবে, যা পূর্বে উচ্ছেদ করা বসতিগুলোর জায়গা নেবে।
ক্যাটজের মন্তব্যটি পশ্চিম তীরের দখলকৃত ভূখণ্ডে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে করা হয়, যেখানে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি বেইত এল-এ ১,২০০টি নতুন বাড়ি অনুমোদনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে তিনি নেটানিয়াহু সরকারের “বসতি সরকার” হওয়ার কথা উল্লেখ করে, সরকারকে “কর্মে অগ্রসর” এবং “সার্বভৌমত্ব অর্জনের” লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে বলেছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সময়ে “প্রায়োগিক সার্বভৌমত্বের যুগ” এবং “অনেক সুযোগ” রয়েছে, যা পূর্বে দেখা যায়নি।
ইসরায়েলি রাজনীতিতে ২০২৬ সালের নির্বাচন বছর আসন্ন, এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এই নির্বাচনের মূল বিষয়গুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুর জোটে থাকা ডানপন্থী ও অতিরিক্ত জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সদস্যরা গাজা পুনরায় দখল এবং পশ্চিম তীরে বসতি বিস্তারকে পুনরায় চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করে চলেছেন। এই রাজনৈতিক প্রবণতা গাজা ও পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন জটিলতা যোগ করেছে।
ক্যাটজের ঘোষণার ফলে গাজা থেকে সম্পূর্ণ সামরিক প্রত্যাহারকে সমর্থনকারী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্টিকরণ চাহিদা এবং ইসরায়েলি সরকারের বসতি নীতি একসঙ্গে গাজা পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী সমাধানকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে গাজা ও পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা, মানবিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক আলোচনার দিক থেকে কী ধরণের পরিবর্তন আসবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরদারির প্রয়োজন।
এই বিবৃতি ও পরিকল্পনা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা পূর্বে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির মূল ধারার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে। গাজা ও পশ্চিম তীরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট এখনো অনিশ্চিত, তবে ক্যাটজের মন্তব্য ইসরায়েলি সরকারকে বসতি সম্প্রসারণের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকেত দেয়।



