28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের এপস্টেইন ব্যক্তিগত জেটে কমপক্ষে আটবার ভ্রমণ, ডি.ও.জি নথিতে প্রকাশ

ট্রাম্পের এপস্টেইন ব্যক্তিগত জেটে কমপক্ষে আটবার ভ্রমণ, ডি.ও.জি নথিতে প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯০-এর দশকে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে অন্তত আটবার চড়েছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তৃতীয় দফা প্রকাশিত নথিতে স্পষ্ট হয়েছে। এই তথ্য পূর্বে জানা ভ্রমণের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি, এবং ট্রাম্পের ভ্রমণের সময়সূচি ও সঙ্গী সম্পর্কে নতুন বিবরণ উন্মোচিত হয়েছে।

নথিগুলোতে উল্লেখ আছে যে, ২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের কৌঁসুলি আদালতে প্রেরিত একটি ইমেইলে ফ্লাইট রেকর্ড থেকে ট্রাম্পের এপস্টেইনের জেটে ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে। এই ইমেইলটি কোনো অপরাধের অভিযোগ না করে শুধুমাত্র ভ্রমণের তথ্য জানিয়েছে, এবং হোয়াইট হাউস থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের আটটি ফ্লাইটের মধ্যে অন্তত চারটি ফ্লাইটে এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলও ছিলেন। বর্তমানে ম্যাক্সওয়েল যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছে, যেখানে তাকে কিশোরী মেয়েদের যৌনকাজে নিয়োগ ও পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

একটি ফ্লাইটে তিনজন যাত্রী ছিলেন: ট্রাম্প, এপস্টেইন এবং ২০ বছর বয়সী এক নারী, যার নাম নথিতে মুছে ফেলা হয়েছে। বাকি দুইটি ফ্লাইটে দুজন নারী ছিলেন, যাদের সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে যে তারা ম্যাক্সওয়েলের মামলায় সাক্ষী হতে পারেন। এই তথ্যগুলো ট্রাম্পের ভ্রমণের সঙ্গী ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।

ট্রাম্প ২০২৪ সালে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেছেন যে তিনি কখনো এপস্টেইনের জেটে চড়েননি এবং তার পেডো দ্বীপেও যাননি। তবে, ডি.ও.জি প্রকাশিত নথি এই দাবির বিরোধিতা করে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো (এফবিআই)কে ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে এই নথি সরবরাহ করা হয়েছিল।

বিচার বিভাগের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সংবেদনশীল দাবি করা হয়েছে, এবং সেগুলো ভিত্তিহীন। যদি কোনো তথ্যের সত্যতা থাকে তবুও সেগুলো ইতিমধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এপস্টেইন ফাইলস, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিতর্কিত গোপন নথি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশের দাবি করা হয়ে আসছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই নথি প্রকাশের দাবি তীব্র হয়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের মাধ্যমে কিছু অংশ জনসাধারণের কাছে উন্মোচিত হয়েছে।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌনদাসী কেনাবেচা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম প্রকাশের দাবি ও তদন্ত চলমান, এবং ট্রাম্পের ভ্রমণের তথ্যও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রকাশনা রাজনৈতিক পরিসরে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই ট্রাম্পের এই ভ্রমণকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, এই তথ্যের প্রভাব ভোটারদের ধারণা ও পার্টির কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবাদী গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংস্থা এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্য কঠোর তদন্তের দাবি জানাচ্ছে, এবং ট্রাম্পের ভ্রমণকে এই তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সারসংক্ষেপে, ডি.ও.জি তৃতীয় দফা নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে আটবারের বেশি ভ্রমণ হয়েছে, যার মধ্যে চারবার গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলও ছিলেন। এই তথ্য পূর্বের জানার চেয়ে বেশি এবং ট্রাম্পের প্রকাশিত অস্বীকৃতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। নথিতে উল্লেখিত অন্যান্য যাত্রী ও ফ্লাইটের বিবরণ ভবিষ্যতে আরও তদন্তের দিক নির্দেশ করবে, এবং রাজনৈতিক দিক থেকে এই প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments