ব্রিটিশ কমেডিয়ান ও অভিনেতা রসেল ব্র্যান্ডকে মেট্রোপলিটন পুলিশ দুইটি নতুন অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে দিয়েছে। এতে একটি ধর্ষণ এবং একটি যৌন হামলার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত, যা ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিসের অনুমোদন পেয়েছে। নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে ব্র্যান্ডকে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হতে হবে।
পুলিশের প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিস অতিরিক্ত একটি ধর্ষণ এবং একটি যৌন হামলার অভিযোগকে বৈধতা দিয়েছে। এই অভিযোগগুলো দুইজন ভিন্ন নারীর বিরুদ্ধে, এবং পূর্বে প্রকাশিত পাঁচটি অভিযোগের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে।
ব্র্যান্ড পূর্বে চারজন নারীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগের মুখোমুখি ছিলেন, যার মধ্যে দুইটি ধর্ষণ, দুইটি যৌন হামলা এবং একটি অশ্লীল আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত। তিনি সবগুলো অভিযোগের বিরুদ্ধে ‘দোষী না’ বলে আপিল করেছেন এবং আদালতে তার দোষারোপ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন।
নতুন অভিযোগের জন্য নির্ধারিত শোনার তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬, যেখানে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে উপস্থিত হবেন। এই শুনানির পর আদালত তার বিরুদ্ধে আরোপিত নতুন অভিযোগের পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।
ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগের তদন্তের সূচনা সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ হয়, যখন সানডে টাইমস, দ্য টাইমস এবং চ্যানেল ৪’র ডিসপ্যাচেসের মাধ্যমে প্রথমবার এই অভিযোগগুলো জনসাধারণের নজরে আসে। সেই সময় থেকে পুলিশ দল ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে আসছে।
নতুন ধর্ষণ অভিযোগটি ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ১ মার্চ ২০০৯ পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সময়ে এক নারীকে লক্ষ্য করে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
অন্যদিকে নতুন যৌন হামলার অভিযোগটি ৩১ আগস্ট ২০০৯ থেকে ১ ডিসেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত সময়কালে ঘটেছে বলে বলা হয়েছে। এই অভিযোগে আরেকজন নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পূর্বে নির্ধারিত মূল মামলার বিচার ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। সেই সময়ে ব্র্যান্ডের পাঁচটি মূল অভিযোগের বিচার হবে, যা ইতিমধ্যে মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
রসেল ব্র্যান্ডের ক্যারিয়ার বহু দশক ধরে টেলিভিশন, রেডিও এবং চলচ্চিত্রে বিস্তৃত। তিনি তার তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ এবং সামাজিক মন্তব্যের জন্য পরিচিত, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং আইনি সমস্যাগুলো মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন অভিযোগের যুক্তি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তি নির্ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে, পূর্বের পাঁচটি অভিযোগের বিচারের ফলাফলও তার সামগ্রিক আইনি অবস্থাকে প্রভাবিত করবে।
ব্রিটিশ সমাজে উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রকাশ সাধারণত জনমতকে উস্কে দেয়। যদিও আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো অনুমান করা যায় না, তবু এই মামলাটি মিডিয়ার শিরোনাম হয়ে আছে।
ব্র্যান্ডের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে জানান যে তিনি সব অভিযোগের বিরুদ্ধে দোষী না হওয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তারা আদালতে প্রমাণের যথার্থতা এবং প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি রাখবে।
এই মামলায় যুক্ত দুইটি নতুন অভিযোগের পাশাপাশি পূর্বের পাঁচটি অভিযোগের বিচার একসাথে চলবে, যা আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। আদালত কীভাবে এই একাধিক অভিযোগকে সমন্বয় করবে, তা পরবর্তী শোনার সময় নির্ধারিত হবে।
ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং জনসাধারণের স্বীকৃতি এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, তিনি আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।



