বিজিএমইএ (বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি) ২৫ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি গার্মেন্টস ইউনিটগুলোকে ছুটি নেওয়ার পরামর্শ জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ওই এলাকায় বিশাল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিএমইএর acting secretary মো. সাইফুল ইসলাম ২২ ডিসেম্বর একটি নোটিশে এই সুপারিশ প্রকাশ করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারেক রহমানের ফিরে আসা দিন বিমানবন্দরের আশেপাশে ভিড়ের সম্ভাবনা বাড়বে, ফলে শ্রমিকদের যাতায়াত ও জরুরি আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
সমিতি অনুমান করে যে, তারেক রহমানের স্বদেশে ফিরে আসার দিন, অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর, বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর মানুষ একত্রিত হবে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, উত্তরা (পূর্ব‑পশ্চিম), উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, আব্দুল্লাপুর, তুরাগ, টঙ্গী, পুবাইল, রূপগঞ্জ, কাঞ্চন ব্রিজ এবং আশুলিয়া (পূর্বাংশ) এলাকার গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের বাস যাতায়াত ও কভার্ড ভ্যানের চলাচলে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা দেখা যায়।
বিজিএমইএ উল্লেখ করে যে, এই এলাকায় শ্রমিকদের যাতায়াত এবং আমদানি‑রপ্তানি পণ্যের পরিবহন সুষ্ঠু রাখতে, কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে, সাধারণ দায়িত্বের (General Duty) শর্তে, ২৫ ডিসেম্বর ছুটি দেওয়া যাবে কি না তা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
অতিরিক্তভাবে, সমিতি নির্দেশ করে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কভার্ড ভ্যানের চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প রুট ব্যবহার করা উচিত। এতে জরুরি পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত না হয়ে চলতে পারে।
যদি কোনো প্রশ্ন বা অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হয়, তবে বিজিএমইএর যুগ্ম‑সচিব (সিএমসি) মো. আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। নোটিশে এই যোগাযোগের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ২৫ ডিসেম্বর দুপুর ১১ টায় লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। তার ফিরে আসার দিন, ঢাকা শহরের পূর্বাঞ্চলের ৩০০ ফুট এলাকায় তাকে স্বাগত জানাতে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, তারেক রহমান সরাসরি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের সমাবেশস্থলে পৌঁছাবেন। এই সরাসরি যাত্রা কর্মসূচি তার ফিরে আসার সময়সূচি ও সমাবেশের স্থানকে সংযুক্ত করে।
বিজিএমইএর এই সুপারিশের মূল উদ্দেশ্য হল, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিক ও পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা, যাতে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন কোনো বড় লজিস্টিক বাধা না দেখা দেয়।
সামগ্রিকভাবে, গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে এই বিশেষ দিনে ছুটি দেওয়া অথবা সাধারণ দায়িত্বের শর্তে কাজ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, কভার্ড ভ্যানের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের স্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে, গার্মেন্টস শিল্পের এই ধরনের সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা অন্যান্য বড় ইভেন্টে পুনরায় প্রয়োগ হতে পারে।



