ইউএন বিশেষজ্ঞ ইরিন খান ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শারিফ ওসমান বিন হাদি নামের তরুণ নেতা গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর দেশব্যাপী বিক্ষোভে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত সহিংস আক্রমণকে কঠোর নিন্দা করেছেন। শারিফের মৃত্যু, যা প্রকাশ্য স্থানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঘটেছিল, দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মিডিয়া ও শিল্পের স্বাধীনতা রক্ষার দাবি তীব্র করেছে।
শারিফ ওসমান বিন হাদি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত বিশাল প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একটি প্রখ্যাত তরুণ নেতা, গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র প্রতিবাদে রূপ নেয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সরকারকে দায়িত্বশীল না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
প্রতিবাদগুলো দ্রুত মিডিয়া সংস্থাগুলোর দিকে ঝুঁকে যায়। ঢাকা শহরের দ্য ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো প্রধান কার্যালয়, পাশাপাশি শায়ানট সংস্কৃতি‑ভবনকে লক্ষ্য করে অগ্নিকাণ্ড এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এই আক্রমণগুলোতে ভবনগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।
মিডিয়া আক্রমণের পরিধি এখানেই থেমে থাকে না। নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপরও শারীরিক হামলা চালানো হয়। নূরুলকে আঘাতের শিকার হতে হয় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এই ঘটনা মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটায় এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
ইরিন খান এই ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “এই মব আক্রমণগুলো হাওয়া থেকে ঘটেনি, বরং বিচারহীনতা দূর করা এবং সংবাদমাধ্যম ও শিল্প‑সাহিত্যের স্বাধীনতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এগুলো ঘটেছে।” তার মতে, দায়িত্বশীলতা এবং ন্যায়বিচার ছাড়া এমন সহিংসতা স্বাভাবিকভাবে পুনরাবৃত্তি হবে।
মিডিয়া সংস্থাগুলো এবং সাংবাদিক সমিতি ইরিন খানের মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে সরকারকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। তারা দাবি করে যে, অবিলম্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দায়িত্বশীলদের ওপর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করা উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের আক্রমণ interim সরকারকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে। মিডিয়া ও শিল্পের স্বাধীনতা যদি সুরক্ষিত না থাকে, তবে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও এই ঘটনাকে নজরে রাখছে। ইউএন এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা মিডিয়া কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে এবং সরকারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নীতি গঠন করতে বলছে।
সারসংক্ষেপে, শারিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভের ধারায় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সহিংস আক্রমণ ঘটেছে, যার ফলে ইউএন বিশেষজ্ঞ ইরিন খান সরকারকে দায়িত্বশীলতা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মিডিয়া স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



