দীপু চন্দ্রের পরিবারকে সমর্থন জানাতে ১৭ জন অধিকারকর্মীর দল মঙ্গলবার বিকেলে ভালুকা গ্রাম‑এর দীপুর বাড়িতে উপস্থিত হয়। দলটি বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত, যারা হত্যাকাণ্ডের পরপরই ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে একত্রিত হয়।
দলটির সদস্যরা সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি তুলে ধরেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, ঘটনার পর সরকার থেকে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফলে পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
দলটির মধ্যে নাগরিক সংগঠন কোয়ালিশন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি, সম্প্রীতি যাত্রা, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) সহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কোয়ালিশনের সদস্য আলোকচিত্রী শহিদুল আলম উপস্থিতি থেকে বলেন, “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে আমরা একসাথে কাজ করছি, তবে অপ্রমাণিত অভিযোগে নৃশংস কাজের ফলে এক মানুষকে হত্যা করা এবং তার দেহকে অশোভনভাবে দাহ করা আমাদের জন্য অস্বীকারযোগ্য।” তিনি এই ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
লেখক ও নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদও উপস্থিত থেকে মন্তব্য করেন, “সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে ঘটমান অনৈতিক ঘটনাগুলো আমাদের নীরব করে রাখে না; দীপুর হত্যাকাণ্ডও আমাদেরকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।” তিনি সমাজের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ব্লাস্টের পরিচালক মাহবুবা আখতার দলকে আশ্বাস দেন যে, তারা সব ধরণের আইনগত সহায়তা প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আইনি সহায়তা, মামলা দায়ের এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের মাধ্যমে আমরা পরিবারকে সমর্থন করব, যাতে তারা ন্যায়বিচারের পথে অগ্রসর হতে পারে।”
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির জাকির হোসেন, লেখক ও কর্মী বাকী বিল্লাহ, সম্প্রীতি যাত্রার সংগঠক কবি ফেরদৌস আরা রুমি, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, বিডিইআরএমের সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, এএলআরডির প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ও সোহেল রানা, মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের আসমা উল হুসনা, নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তাওহিদ আহমেদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দলটি সরকারের কাছে ত্বরিত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সকল প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করার আহ্বান জানায়। তারা জোর দিয়ে বলেন, তদন্তের ফলাফল যদি যথাযথ না হয়, তবে আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের বিচারের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীপু চন্দ্রের পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, অধিকারকর্মীরা বলছেন, “পরিবারের শোকের সময়ে সরকার যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।” এই দাবি সরকারের ন্যায়বিচার নীতি ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অধিকারকর্মীরা ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। তারা উল্লেখ করেন, “এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং শিকার পরিবারের জন্য দ্রুত সহায়তা প্রদান করা অপরিহার্য।”
এই সাক্ষাৎকার ও সমাবেশের পর, দলটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নেবে। শেষ পর্যন্ত, অধিকারকর্মীরা পরিবারকে আশ্বাস দেন যে, ন্যায়বিচারের পথে তারা একা নয়, এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।



