ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ বিকেলে নির্বাচন কমিশনের ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন, তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো সংলাপ না করে সরাসরি বৈঠকের দিকে অগ্রসর হন। একই সময়ে, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা। মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ভোটের দিন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন। উপদেষ্টারা এই সংক্ষিপ্তসারকে ভিত্তি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বৈঠকের পর, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দুইজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, যার মধ্যে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন অন্তর্ভুক্ত, সঙ্গে আলাপ করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথোপকথন না করে শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ আলোচনায় মনোনিবেশ করেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা তার চারপাশে ঘিরে ধরলেও তিনি সরাসরি গেটের দিকে অগ্রসর হন এবং মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যান।
এই ঘটনার পর, সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন তোলা হয় কেন উপদেষ্টা গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ না করে সরাসরি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দিক থেকে এই আচরণকে কিছু বিশ্লেষক ‘প্রশাসনিক স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ভোটার তালিকা আপডেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটার শিক্ষা এবং ভোটের দিন সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা মোকাবিলার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পূর্বে সকল প্রান্তে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অশান্তি রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই বৈঠকের আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের গুজব প্রচারিত হয়েছিল। যদিও গুজবের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও এই বৈঠক তার রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় দৃঢ় করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। উপদেষ্টার উপস্থিতি এবং অন্যান্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে সমন্বয়কে সরকারী দিক থেকে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে, উপদেষ্টা দল নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং প্রদান করে এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরে। তারা উল্লেখ করেন যে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল স্তরে সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাবে। এই ব্রিফিংটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করার পরেও, উপদেষ্টা দল নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের জন্য একটি লিখিত নোট প্রকাশের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। এই নোটে নির্বাচনের দিন কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, ভোটারদের কীভাবে সহায়তা করা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই আচরণ ভবিষ্যতে তার ভূমিকা ও দায়িত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য ও স্পষ্টীকরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বর ২৩ তারিখে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং অন্যান্য উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেন, তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো সংলাপ না করে সরাসরি বৈঠকের দিকে অগ্রসর হন। এই ঘটনার ফলে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের মধ্যে স্বচ্ছতা ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।



