রবিবার তুরস্কের পার্লামেন্টে ২০২৬ আর্থিক বছরের বাজেট প্রস্তাব নিয়ে শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি হয়। রেকর্ডে দেখা যায়, শাসক পার্টি (AKP) এর সদস্য মুস্তাফা ভারাঙ্ক এবং প্রধান বিরোধী দল (CHP) এর উপদেষ্টা গোকান গুনায়দিন প্রথমে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হন, পরে অন্য সদস্যদের যোগদানের ফলে পরিস্থিতি দ্রুতই শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়।
সংসদে গুনায়দিন, CHP-র চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেলকে লক্ষ্য করে, ভারাঙ্ক অভিযোগ করেন যে CHP শাসিত শহরগুলোতে কৃষকদের বিনামূল্যে ট্র্যাক্টর সরবরাহের প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে বহুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন এখনো বাকি।
এর প্রতিক্রিয়ায় গুনায়দিন সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে, বলেন যে এই বিতর্ক রাজনৈতিক কাদার স্তরে পৌঁছেছে এবং CHP পরিচালিত পৌরসভাগুলোর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এ কথাটি উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের রাগান্বিত মন্তব্য পার্লামেন্টের শৃঙ্খলা নষ্ট করে।
দুই পক্ষের তীব্র কথোপকথন দশ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। নিরাপত্তা কর্মী এবং কিছু সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তবে পুরোপুরি শান্তি ফিরতে কিছুটা সময় লেগে। সংঘর্ষের পরেও বাজেট অনুমোদন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং ৩২০ ভোটে বাজেট আইন পাস হয়।
সংঘর্ষের সময় প্রধান বিরোধী দল CHP-র নেতা ওজগুর ওজেল এবং পরাজিত দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (MHP) এর নেতা দেভলেত বাহচেলি উপস্থিত ছিলেন। যদিও তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি, তাদের উপস্থিতি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এই ঘটনার পর, সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের সংঘর্ষ পার্লামেন্টের কাজের গতি এবং বাজেটের বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন সরকারকে আর্থিক নীতি বাস্তবায়নে সমর্থন দরকার।
বাজেট পাস হওয়ার পর, শাসক দল ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। শাসক দল দাবি করে যে বাজেট দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং কৃষক সহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, বিরোধী দল বাজেটের কিছু ধারার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে, বিশেষ করে কৃষক সহায়তা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের পার্লামেন্টের অশান্তি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে। উভয় দলই জনমতকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে, এবং বাজেটের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে তীব্র নজর রাখবে।
সংসদে সংঘর্ষের পর, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং পার্লামেন্টের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, বাজেটের কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সমন্বয় ও তদারকি প্রয়োজনীয় হবে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনা তুরস্কের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ বাজেটের মতো মৌলিক নীতিগত বিষয়ে সরাসরি প্রকাশ পেয়েছে। উভয় পক্ষের জন্যই এই পরিস্থিতি কেবলমাত্র একটি চ্যালেঞ্জ নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকও বটে।



