বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে ২০২৫ সালের বক্স অফিস রেকর্ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় যে, হলিউডের বড় হিটগুলো ছাড়াও স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলো দর্শকের মন জয় করেছে। মাইনক্রাফট মুভি, লিলো ও স্টিচ, উইকেড: ফর গুড, সুপারম্যান, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবর্থ এবং জুটোপিয়া ২ মতো আন্তর্জাতিক ব্লকবাস্টারগুলো গ্লোবাল স্কেলে শীর্ষে ছিল, তবে ভারত, জার্মানি এবং আর্জেন্টিনার মতো দেশেও নিজস্ব শৈলীর ছবি বড় সাফল্য অর্জন করেছে।
ভারতে ২০২৫ সালের অন্যতম বড় হিট ছিল ল্যাক্সমান উটেকরের পরিচালিত ঐতিহাসিক অ্যাকশন মহাকাব্য ‘ছাভা’। ভিকি কৌশল, অক্ষয় খন্না এবং রশমিকা মন্দানা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবিটি সাম্ভাজি, মারাঠা সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসকের জীবনীকে ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে শিবাজীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে তাকে মারাঠা কনফেডারেসি ভেঙে পড়বে বলে গর্ব করে একটি উৎসবের ঘোষণা দিতে দেখা যায়। তবে শিবাজীর পুত্র সাম্ভাজি দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণ করে বিদ্রোহ চালিয়ে যায়।
‘ছাভা’র সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল। ভিকি কৌশলের অভিনয়কে প্রশংসা করা হলেও, হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া একে “খারাপ চলচ্চিত্র নির্মাণের গর্জনময় সম্মানসূচক” বলে সমালোচনা করেছে। তবুও ভারতীয় দর্শকরা ছবিটিকে উন্মাদভাবে গ্রহণ করেছে, যা দেশের প্রথমার্ধের থিয়েটার আয়কে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। মধ্য-ডিসেম্বরে দেশীয় বক্স অফিসে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ডলার আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অতিরিক্ত ১১ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।
ইউরোপে জার্মানির ‘ডের শুহ দেস মানিটু’ (মানিটুর জুতা) নামের স্ল্যাপস্টিক কমেডি-ওয়েস্টার্ন প্যারোডি ব্লকবাস্টারটি বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। কনস্ট্যান্টিন ফিল্মের এই মিনি-মেজর প্রযোজনা জার্মানিতে ‘কুল্টক্লাসসিকার’ (Kultklassiker) হিসেবে পরিচিত, যা স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ছবির হাস্যরস এবং পশ্চিমা চলচ্চিত্রের প্যারোডিক উপাদানগুলো জার্মান দর্শকের রুচির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে এটি বক্স অফিসে শীর্ষে উঠে এসেছে।
আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে, একটি স্যাটায়ার অ্যান্থোলজি চলচ্চিত্রও ২০২৫ সালের বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে। যদিও নাম ও বিশদ প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ধরণের সমালোচনামূলক রসিকতা সমৃদ্ধ কাজগুলো আর্জেন্টিনার চলচ্চিত্র বাজারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের বক্স অফিসে হলিউডের গ্লোবাল হিটের পাশাপাশি স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলোও শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছে। ভারতের ‘ছাভা’ তার ঐতিহাসিক বর্ণনা ও বাণিজ্যিক সাফল্যের মাধ্যমে দেশীয় সিনেমার নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে, আর জার্মানির ‘ডের শুহ দেস মানিটু’ তার অনন্য হাস্যরসের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয় জয় করেছে। এই প্রবণতা নির্দেশ করে যে, স্থানীয় কন্টেন্টের শক্তি ও বৈশ্বিক আকর্ষণ একসাথে মিলিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠন করছে।
বিনোদন জগতের এই বৈচিত্র্যময় রঙিন দৃশ্যপট দেখায় যে, দর্শকরা এখন শুধুমাত্র বড় হোলিউড প্রোডাকশন নয়, বরং নিজ দেশের গল্প, সংস্কৃতি এবং হাস্যরসের সঙ্গে যুক্ত চলচ্চিত্রেও সমানভাবে আকৃষ্ট। ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশীয় চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলতে পারে, যা বৈশ্বিক বক্স অফিসের মানচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে।



