গত সপ্তাহে রাজনৈতিক কর্মী জাইমা রহমান ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি দাদুর পাশে থাকতে এবং পিতাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি পরিবারের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ও দাদুর প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
রহিমের পোস্টে উল্লেখ আছে, দাদুর সঙ্গে তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হল যখন তিনি মাত্র এগারো বছর বয়সে স্কুলের ফুটবল টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন। তার দল জয়লাভের পর তাকে একটি মেডেল প্রদান করা হয়, এবং মা তাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে যান, যাতে সে নিজের কণ্ঠে বিজয়ের গল্প বলতে পারে।
দাদু তখন পুরো মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন, তার উত্তেজনা ও গোলকিপার হিসেবে করা কাজের বর্ণনা শুনে গর্বে ভরে ওঠেন। পরে দাদু সেই গল্পটি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যা জাইমা মনে করেন দাদুর গর্বের প্রকাশ।
জাইমা জানান, দাদু দেশের দায়িত্বে ছিলেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে পরিবারের মধ্যে তিনি ছিলেন এক মমতাময়ী অভিভাবক। দাদুর কাঁধে দেশের দায়িত্ব থাকলেও, তার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা।
দাদুর এই দ্বৈত পরিচয় জাইমা তার নিজের নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দাদুর কাছ থেকে তিনি শিখেছেন নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার মানসিকতা, যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বে প্রয়োগ করতে চান।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশে কাটানো সতেরো বছর তার জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে লন্ডনের দিনগুলো তাকে বাস্তববাদী করেছে এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে, যদিও তার হৃদয় ও মন সবসময় বাংলাদেশেই রয়ে গেছে।
বহিরাগত অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও, জাইমা তার শিকড় ও সংস্কৃতিকে কখনোই ভুলে যাননি। তিনি বলেন, আমাদের সত্তার ভিত্তি, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধই মানুষকে গঠন করে এবং পরিচয় বজায় রাখে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান দিয়েছে, তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা তাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করেছে। কাজের মাধ্যমে তিনি শিখেছেন বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব।
আইন পেশায় কাজ করার সময় তিনি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের গল্পের সঙ্গে পরিচিত হন। প্রতিটি মামলার পেছনে মানুষের সমস্যার সমাধান খোঁজা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, যা তার সামাজিক দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে।
রহিমের পোস্টে উল্লেখ আছে, প্রতিটি ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধান খোঁজার প্রক্রিয়ায় তিনি আইনগত ও যৌক্তিক সমাধান অনুসন্ধান করেন, যা তার পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকাশ করে।
এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে জাইমা ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত নীতি প্রয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দাদুর শিক্ষা ও নিজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তিনি দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সামগ্রিকভাবে, জাইমা রহমানের ফেসবুক পোস্ট তার পারিবারিক স্মৃতি, বিদেশে কাটানো সময়, শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে একত্রে উপস্থাপন করেছে, যা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।



